এটাই গোলবাড়ির আসল রহস্যদুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে খাওয়া দাওয়া। শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ের গোলবাড়ির বিখ্যাত কষা মাংস খেতে এই সময় ভিড় জমান অনেকেই। মুখে দিলেই এই মাংস মিলিয়ে যায়! বাঙালির কাছে গোলবাড়ির কষা মাংস মানেই একটা আলাদা আবেগ। এই মাংসের স্বাদ পেলে মন ভরে যায় সহজেই। তবে, গোলবাড়ির কষা মাংস খেতে আর শ্যামবাজারে যেতে হবে না। পুজোর দিনগুলিতে বাড়ি বসে খুব সহজেই বানিয়ে নিতে পারবেন। তার জন্য রইল সিক্রেট রেসিপি-
কী কী লাগবে–
৫০০ গ্রাম মটন, ২ টেবিল চামচ কাঁচা পেঁপের রস, ১ টেবিল চামচ করে আদা, রসুন ও লঙ্কা বাটা, সর্ষের তেল, দই এক বাটি, ১ চা-চামচ ধনে গুঁড়ো, ১ চা-চামচ হলুদ গুঁড়ো, আধ চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, ভাজা পেঁয়াজ(বেরেস্তা), দারচিনি, বড় এলাচ, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, ৮-১০ টি গোলমোরিচ, ১/৪ অংশ জায়াফল ও জত্রৈ, ২-৩ টে তেজপাতা, নুন, চায়ের লিকার, ঘি অথবা মাখন।
রান্ধন প্রণালী
প্রথমে মাংস ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এবার একটি বাটিতে মাংসের মধ্যে পেঁপের রস, আদা-রসুন-শুকনো লঙ্কা বাটা এবং এক চামচ সর্ষের তেল দিয়ে ভাল করে মেখে নিন। এবার মাংস ঢেকে সারারাত বা অন্তত ৩-৪ ম্যারিনেশনের জন্য ফ্রিজে রাখুন। বেরেস্তা বানানোর জন্য একটা কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করুন। এবার তার মধ্যে পেঁয়াজ কুচিট দিয়ে ভাজুন। যতক্ষণ না বাদামি রঙ হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ভাজুন। পেঁয়াজ ভাজার পর তা ঠান্ডা করুন। এবং বেটে নিন। অন্যদিকে মশলা তৈরির সমস্ত উপকরণগুলি একটি শুকনো কড়াইয়ে ড্রাই রোস্ট করে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন। দারচিনি,ছোট এলাচ এবং তেজপাতাটা একটু আলাদা করে শিলে বা হামানদিস্তায় পিষে নিন। অন্য একটি পাত্রে দই নিয়ে তার মধ্যে একে-একে ধনেগুঁড়ো,হলুদগুঁড়ো,কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে দই ফেটিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল বেরতে শুরু করলে এর মধ্যে ম্যারিনেট করা মাংসটা দিয়ে ভাল করে মেশান। আঁচ বাড়িয়ে, ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। মাংসটা আরও একটু নাড়াচাড়া করে ১০-১৫ মিনিটের জন্য আবার কম আঁচে ঢাকা দিয়ে রান্না করে নিন। মটন থেকে একটু জল বার হতে শুরু করলে এর মধ্যে স্বাদমতো নুন ও চিনি যোগ করুন। ঢাকা দিয়ে ৩০-৪০ মিনিট মতো দমে বসান। মাথায় রাখবেন একেবারে কম আঁচে পুরো রান্নাটা করতে হবে তবেই একদম গোলবাড়ির মতো টেক্সচার আসবে। একদম মাখোমাখো হয়ে গেলে রুটি, ভাত বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন গোলবাড়ির কষা মাংস।