লাউ চিংড়ি (ছবি: ফেসবুক)বাঙালির হেঁশেল আর নস্টালজিয়া— একে অপরের পরিপূরক। গরমের দুপুরে কচি লাউয়ের সঙ্গে ছোট ছোট চিংড়ির যুগলবন্দি মানেই গরম ভাতে ম্যাজিক। কিন্তু আজ যে রেসিপির কথা বলছি, তার পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস আর নিখাদ বাঙালিয়ানা।
শোনা যায়, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র একবার গ্রীষ্মের দুপুরে হালকা অথচ মুখরোচক কিছু খাওয়ার আবদার করেছিলেন। রাজসভার বিদূষক গোপাল তখন তাঁর পিসির হাতের এই বিশেষ ‘লাউ চিংড়ি’ খাইয়েছিলেন মহারাজকে। খেয়ে তো মহারাজ একেবারে পঞ্চমুখ! কী এমন জাদু ছিল গোপালের পিসির হাতে? সাধারণ লাউ চিংড়িতে তিনি এমন কী মেশাতেন যা মহারাজেরও মন জয় করেছিল? জেনে নিন সেই সিক্রেট রেসিপি।
উপকরণ
কচি লাউ: ১টি (একেবারে ঝিরি ঝিরি করে কাটা)
চিংড়ি মাছ: ২৫০ গ্রাম (ছোট বা মাঝারি, খোসা ছাড়িয়ে পরিষ্কার করা)
সর্ষের তেল: ৩-৪ টেবিল চামচ
ফোড়নের জন্য: তেজপাতা ১টি, শুকনো লঙ্কা ১টি, গোটা জিরে আধ চা চামচ
আদা বাটা: ১ চা চামচ
কাঁচা লঙ্কা: ৪-৫টি (মাঝখান থেকে চেরা)
গুঁড়ো মশলা: হলুদ গুঁড়ো আধ চা চামচ, জিরে গুঁড়ো আধ চা চামচ
স্বাদ বৃদ্ধিতে: নুন ও চিনি (পরিমাণমতো)
পিসির গোপন মশলা: গাওয়া ঘি ১ চামচ এবং ভাজা মশলা (জিরে ও ধনে শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করা) ১ চা চামচ
সাজানোর জন্য: এক মুঠো ধনে পাতা কুচি
প্রণালী
১. চিংড়ি ভাজা: প্রথমে চিংড়ি মাছগুলোতে সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে চিংড়িগুলো হালকা করে ভেজে তুলে নিন। বেশি কড়া করে ভাজলে চিংড়ি রবারের মতো শক্ত হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
২. ফোড়ন ও মশলা কষানো: ওই একই তেলে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও গোটা জিরে ফোড়ন দিন। মশলা থেকে মিষ্টি গন্ধ বেরোলে আদা বাটা ও চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে নিন।
৩. লাউ রান্না: এবার আগে থেকে কুচিয়ে রাখা কচি লাউ কড়াইতে দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন ও সামান্য হলুদ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ঢাকা দিন। লাউ থেকে নিজের জল বেরোবে, তাই আলাদা করে জল দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আঁচ মাঝারি রাখুন।
৪. চিংড়ির মেলবন্ধন: লাউ মজে এলে বা অর্ধেক সেদ্ধ হয়ে গেলে আগে থেকে ভেজে রাখা চিংড়ি মাছগুলো দিয়ে দিন। এই সময়ে জিরে গুঁড়োটাও ছড়িয়ে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। আবার ঢাকা দিয়ে রান্না হতে দিন।
৫. স্বাদের ব্যালেন্স: লাউ পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে জল শুকিয়ে এলে পরিমাণমতো চিনি দিন। মনে রাখবেন, লাউ চিংড়ি একটু মিষ্টি মিষ্টিই ভালো লাগে। নুন-মিষ্টির ব্যালেন্স ঠিক আছে কি না চেখে দেখে নিন।
৬. পিসির ম্যাজিক টাচ: জল শুকিয়ে তরকারি মাখা মাখা হয়ে এলে নামানোর ঠিক আগে গোপাল ভাঁড়ের পিসির সেই সিক্রেট উপাদান— এক চামচ খাঁটি গাওয়া ঘি এবং এক চামচ ভাজা মশলা ছড়িয়ে দিন। ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন ধনে পাতা কুচি। ব্যস, সুবাসে ম ম করবে গোটা বাড়ি!
টিপস: লাউ কাটার আগে ধুয়ে নেবেন, কাটার পর ধুলে লাউ থেকে অতিরিক্ত জল বেরোয় এবং স্বাদ পানসে হয়ে যায়।
গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই ধ্রুপদী পদ। প্রথম গ্রাস মুখে দিলেই বুঝতে পারবেন, কেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র এই পদের প্রশংসায় এমন আত্মহারা হয়েছিলেন!