স্ট্রবেরি-কিউই-বেরিজ নাকি আম-কলা-পেঁপে, দেশি-বিদেশির মধ্যে কোনটা বেশি উপকার?Imported Fruits Vs Local Fruits: বাহারি, দামি বিলিতি ফলের ঝকঝকে সাজ আজকাল বাজার দখল করে থাকলেও পুষ্টির লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে স্থানীয় ও মরসুমি দেশি ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, চকচকে চেহারার আড়ালে বিলিতি ফল যতটা আকর্ষণীয়, স্বাস্থ্যের দিক থেকে দেশি ফল তার চেয়েও বেশি কার্যকর।
কারণ খুব সহজ। দেশি ফল স্থানীয় পরিবেশে উৎপন্ন হয় বলে তা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি তাজা থাকে। দীর্ঘ পরিবহণের ঝক্কি নেই, সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণও লাগে না। ফলে ফলের আসল পুষ্টিগুণ প্রায় অক্ষত থাকে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রতিটি অঞ্চলের জলবায়ু ও পরিবেশ অনুযায়ী সেই এলাকার মানুষের শরীরের প্রয়োজনও আলাদা। স্থানীয় ফলগুলিতে ঠিক সেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারের ভারসাম্য থাকে, যা শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে।
আরও একটি বড় কারণ খরচ। আমদানি করা ফলের তুলনায় দেশি ফল অনেক সস্তা। পেয়ারা, পেঁপে, কলা, সবেদা বা জাম, এই ফলগুলি নিয়মিত খাওয়া যেমন সহজ, তেমনই পকেটের ওপর চাপও কম পড়ে। অন্যদিকে বিলিতি ফলের বাস্তবতাও চোখে পড়ার মতো। সুপারমার্কেটের তাকজোড়া চকচকে আপেল, নাশপাতি বা কিউই দেখতে যতই সুন্দর হোক, সেগুলি আসে বহু দূর থেকে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য অনেক ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
ফলে তাজা অবস্থায় না খাওয়ার কারণে পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, বিলিতি ফল যে একেবারে ক্ষতিকর তা নয়, কিন্তু অতিরিক্ত লাভজনকও নয়। বিশেষ করে যখন একই পুষ্টি দেশি ফল থেকেই পাওয়া যায়।
এই ‘ফল যুদ্ধ’-এর রায় তাই স্পষ্ট। তারকাদের দেখাদেখি বা ফ্যাশনের জন্য দামি ফল কেনার চেয়ে নিজের এলাকার মরসুমি ফল খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে শরীর পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি, আর নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাসও বজায় থাকে। সব মিলিয়ে, বাহারি বিলিতি ফলের মোহ কাটিয়ে দেশি ও মরশুমি ফলকে খাদ্যতালিকায় জায়গা দিলে উপকার পাবে শরীর, বাঁচবে টাকা, পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপও কমবে, এই বার্তাই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।