খাসির মাংস দুর্গাপুজো হোক বা রবিবারের দুপুর, গরম গরম ফুলকো লুচির সঙ্গে পাতে যদি পড়ে ঘন মশলায় কষানো খাসির মাংস, তা হলে জমে যায় খাওয়াদাওয়া। বিশেষ করে মাংসের ঝোল যদি হয় গাঢ়, মশলাদার এবং আলুতে ভরা, তা হলে লুচি দিয়ে মেখে খাওয়ার স্বাদই আলাদা। তবে রেস্তরাঁ বা বিয়েবাড়ির মতো খাসির মাংস বাড়িতে রান্না করতে গেলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। মাংস ভালো করে ম্যারিনেট করা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে কষানো, প্রতিটি ধাপেই রয়েছে স্বাদ বাড়ানোর কৌশল। জেনে নিন, কীভাবে বাড়িতেই বানাবেন লুচির উপযোগী সুস্বাদু কষা খাসির মাংস।
খাসির মাংস ৫০০ গ্রাম, আলু ২টি, বড় পেঁয়াজ ২টি কুচি, টক দই ৩ টেবিল চামচ, আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, টমেটো ১টি কুচি, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, লঙ্কার গুঁড়ো ১ চা চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ, গরম মশলা গুঁড়ো আধ চা চামচ, গোটা গরম মশলা, তেজপাতা ২টি, শুকনো লঙ্কা ১টি, সর্ষের তেল পরিমাণমতো, নুন ও চিনি স্বাদমতো।
প্রণালী:
প্রথমে খাসির মাংস ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। একটি পাত্রে মাংসের সঙ্গে টক দই, আদা-রসুন বাটা, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো এবং সামান্য নুন মিশিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন। হাতে সময় থাকলে আরও কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারেন। এতে মাংসে মশলার স্বাদ ভালোভাবে ঢুকবে।
এবার আলু দু'টুকরো করে কেটে নুন-হলুদ মাখিয়ে নিন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে আলুগুলি সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন। ওই তেলেই তেজপাতা, গোটা গরম মশলা ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ধীরে ধীরে বাদামি করে ভাজুন। পেঁয়াজ ভালোভাবে ভাজা হলে আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন।
এবার ম্যারিনেট করা খাসির মাংস কড়াইয়ে দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালো করে কষাতে থাকুন। মাংস থেকে জল বেরোবে। সেই জল শুকিয়ে তেল আলাদা হতে শুরু করলে জিরে, ধনে ও লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে দিন। টমেটো কুচি দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষান। মশলা যাতে কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
মাংস ভালোভাবে কষানো হলে ভাজা আলু ও প্রয়োজনমতো গরম জল দিন। ঢেকে কম আঁচে রান্না করুন, যতক্ষণ না মাংস নরম হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে গরম জল দিতে পারেন। শেষে গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। লুচির সঙ্গে খাওয়ার জন্য ঝোল খুব পাতলা না রেখে ঘন করে নামানোই ভালো।
মাংস তাড়াহুড়ো করে রান্না না করে ধীরে ধীরে কষান। মশলার কাঁচা গন্ধ চলে গেলে এবং তেল আলাদা হলে তবেই জল দিন। গরম গরম ফুলকো লুচির সঙ্গে পরিবেশন করুন এই ঘন কষা খাসির মাংস। পুজোর ভোজ হোক বা ছুটির দিনের দুপুর, এই পদেই জমে উঠবে বাঙালির খাওয়াদাওয়া।