Potato Curry: সাধারণ আলুর তরকারি ছাড়ুন? রইল মহারাষ্ট্রের মশলাদার তরকারির Recipe

প্রতিদিন একই ধরনের আলুর তরকারি খেতে খেতে একঘেয়ে লাগে। অথচ বাড়িতে আলু থাকলেই খুব সহজে তৈরি করে ফেলা যায় একেবারে অন্য স্বাদের একটি পদ। মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাটাটা রস্সা।

Advertisement
সাধারণ আলুর তরকারি ছাড়ুন? রইল মহারাষ্ট্রের মশলাদার তরকারির RecipeBatata Rassa: মহারাষ্ট্র স্টাইল তরকারির রেসিপি।
হাইলাইটস
  • প্রতিদিন একই ধরনের আলুর তরকারি খেতে খেতে একঘেয়ে লাগে।
  • একেবারে অন্য স্বাদের একটি পদ।
  • মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাটাটা রস্সা।

প্রতিদিন একই ধরনের আলুর তরকারি খেতে খেতে একঘেয়ে লাগে। অথচ বাড়িতে আলু থাকলেই খুব সহজে তৈরি করে ফেলা যায় একেবারে অন্য স্বাদের একটি পদ। মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাটাটা রস্সা। ঝাল-মশলাদার গ্রেভি, নরম আলু এবং সর্ষে-জিরে-কারিপাতার ফোড়নের গন্ধ এই রান্নার স্বাদ একেবারে বদলে দেয়।

‘বাটাটা’ মানে আলু। আর রসা মানে’ হল মশলাদার ঝোল। ফলে নাম থেকেই বোঝা যায়, এই রান্নার মূল আকর্ষণ হল আলু এবং ঝোল। মহারাষ্ট্রে এই পদ রুটি, ভাকরি কিংবা ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়। বাঙালি বাড়িতেও খুব সহজে এই রান্না করা সম্ভব।

কী কী লাগবে?
এই রান্নার জন্য প্রথমে ১৮০ গ্রাম আলু নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি আকারের টুকরো করে নিতে হবে। রান্নায় লাগবে দেড় টেবিল চামচ সানফ্লাওয়ার তেল, এক চা চামচ সর্ষে, আধ চা চামচ জিরে, আধ চা চামচ সাদা পোস্ত এবং ৬ থেকে ১০টি কারিপাতা।

এর সঙ্গে ৬০ গ্রাম মিহি করে কাটা লাল পেঁয়াজ, এক চা চামচ কুরিয়ে নেওয়া আদা এবং এক চা চামচ আদা-রসুন বাটা দিতে হবে। ৮০ গ্রাম মিহি করে কাটা টমেটোও লাগবে। মশলার জন্য নিতে হবে দেড় চা চামচ লঙ্কাগুঁড়ো, আধ চা চামচ ধনে গুঁড়ো, আধ চা চামচ হলুদ এবং এক-চতুর্থাংশ চা চামচ গোঁদা মশলা বা গরম মশলা। স্বাদ অনুযায়ী নুন, এক চা চামচ লেবুর রস, সামান্য কুচোনো ধনেপাতা এবং প্রায় ৩০০ মিলিলিটার গরম জল লাগবে।

প্রথমে আলু সেদ্ধ করে নিন
একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে আলুর টুকরোগুলি দিয়ে দিন। আলু নরম হওয়া পর্যন্ত সেদ্ধ করতে হবে। তবে একেবারে গলে গেলে চলবে না। ছুরি বা কাঁটা চামচ দিয়ে সহজে কাটা যাচ্ছে দেখলেই আঁচ বন্ধ করে দিন। তার পর জল ঝরিয়ে আলুগুলি আলাদা করে রাখুন।

এবার ফোড়ন
কড়াইয়ে তেল গরম করে প্রথমে সর্ষে দিন। সর্ষে ফুটতে শুরু করলে জিরে, পোস্ত এবং কারিপাতা দিয়ে দিন। কারিপাতার গন্ধ বেরিয়ে এলে মিহি করে কাটা পেঁয়াজ দিয়ে প্রায় এক মিনিট ভাজুন।

Advertisement

এর পর কুরিয়ে রাখা আদা এবং আদা-রসুন বাটা দিয়ে ভাল করে নাড়তে হবে। কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া পর্যন্ত মশলাগুলি রান্না করুন।

টমেটো ভাল করে কষান
এ বার কড়াইয়ে কাটা টমেটো এবং সামান্য নুন দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করতে হবে। মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন, যাতে তলায় লেগে না যায়।

টমেটো একেবারে নরম হয়ে ঘন, জ্যামের মতো হয়ে এলে এবং কড়াইয়ের চারপাশে তেল বেরিয়ে আসতে শুরু করলে বুঝবেন মশলা ভাল করে কষানো হয়েছে। বাটাটা রস্সার স্বাদ ভাল করার ক্ষেত্রে এই ধাপটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শুকনো মশলা ও আলু মেশান
এ বার আঁচ কমিয়ে লঙ্কাগুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো এবং হলুদ দিয়ে দিন। এক থেকে দু’মিনিট ভাল করে নাড়তে হবে। মশলা যাতে পুড়ে না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখুন।

এর পর ৩০০ মিলিলিটার গরম জল ঢেলে দিন। তার মধ্যে সেদ্ধ করে রাখা আলুও দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। কড়াই ঢেকে কম থেকে মাঝারি আঁচে প্রায় ১০ মিনিট রান্না করুন।

আলু পুরোপুরি নরম হয়ে গেলে এবং ঝোলের উপরে হালকা তেলের পরত দেখা গেলে বুঝবেন বাটাটা রস্সা তৈরি।

শেষে মশলা এবং লেবুর রস
আঁচ বন্ধ করার ঠিক আগে গোঁদা মশলা বা গরম মশলা এবং লেবুর রস দিয়ে দিন। উপর থেকে কুচোনো ধনেপাতা ছড়িয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। ব্যস, তৈরি মহারাষ্ট্রের মশলাদার বাটাটা রস্সা।

কারি ঘন করতে চাইলে কী করবেন?
অনেকে বাটাটা রস্সা একটু ঘন করে খেতে পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে রান্না হয়ে যাওয়ার পর আলুর ৪-৫টি টুকরো চামচ দিয়ে হালকা করে চটকে ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এতে আলু থেকেই ঝোল কিছুটা ঘন হয়ে যাবে। চাইলে দু’চামচ ভাজা চিনেবাদামের গুঁড়োও মেশাতে পারেন। এতে ঝোলের স্বাদ আরও বাড়বে।

ভাত না রুটি, কীসের সঙ্গে খাবেন?
বাটাটা রস্সা গরম গরম পরিবেশন করাই সবচেয়ে ভাল। সাধারণ ভাতের সঙ্গে যেমন খেতে পারেন, তেমনই রুটি, লুচি, পরোটা বা ভাকরির সঙ্গেও পরিবেশন করা যায়। মহারাষ্ট্রের আসল স্বাদ পেতে গরম ভাকরির সঙ্গে এই মশলাদার আলুর ঝোল এক বার চেখে দেখতে পারেন।  

POST A COMMENT
Advertisement