পায়েসের রেসিপি উৎসবের মরসুম হোক বা ছুটির দিনের বিশেষ আয়োজন- শেষ পাতে একটু পায়েস পেলে মন এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। কিন্তু, অনেকেরই আক্ষেপ থাকে, তাঁদের তৈরি পায়েস ঘন ও ক্রিমি হয় না। অনেক সময় আবার চাল আর দুধ আলাদা হয়ে থাকে। আপনিও কি এই সমস্যায় ভুগেছেন? তা হলে আপনার জন্য রইল শেফ কুণাল কাপুরের দেওয়া এক অব্যর্থ টোটকা।
এই বিশেষ রেসিপিতে এমন একটি 'গোপন' উপাদানের কথা বলা হয়েছে, যা ব্যবহার করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুধ ফোটানোর আর প্রয়োজন পড়বে না। নিমেষেই আপনার পায়েস হয়ে উঠবে ক্ষীরের মতো ঘন, ক্রিমি আর সুস্বাদু। জেনে নিন, শেফ কুণাল কাপুরের সেই বিশেষ রেসিপি।
ঘন ও ক্রিমি ক্ষীর পায়েস তৈরির উপকরণ
ফুল ক্রিম দুধ: ১ লিটার
চাল: ১/৪ কাপ (ধুয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে)।
শেফের মতে, এই পায়েসের জন্য যে কোনও চাল নিলে হবে না। বরং নিতে হবে সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চাল। ছোট দানার চাল বা ভাঙা বাসমতী ব্যবহার করলেও স্বাদ ও টেক্সচার সবচেয়ে ভাল হবে।
চিনি: ১/২ কাপ (স্বাদ মতো)
এলাচ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
জাফরান: ১০-১২টি সুতো (সামান্য ঈষদুষ্ণ দুধে ভেজানো)
কুচানো ড্রাই ফ্রুটস: আমন্ড, কাজু ও পেস্তা (সাজানোর জন্য)
সেই সঙ্গে প্রয়োজন একটি 'গোপন উপাদান' (মিল্ক পাউডার বা খোয়া ক্ষীর): ৩-৪ টেবিল চামচ (সামান্য ঈষদুষ্ণ দুধে মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে)।
তৈরির প্রণালী
১. দুধ ফোটানো: প্রথমে একটি ভারী পাত্রে ফুল ক্রিম দুধ মাঝারি আঁচে ফুটতে দিন। দুধ ফোটার সময় পাত্রের গায়ে যে সর জমবে, তা হাতা দিয়ে চেঁছে বারবার দুধের সঙ্গেই মিশিয়ে দিতে থাকুন। এতে ক্ষীর পায়েসের স্বাদ বাড়ে।
২. চাল মেশানো: দুধে ভাল করে ফুট এলে, ভিজিয়ে রাখা চাল জল ঝরিয়ে তাতে দিয়ে দিন। এবার গ্যাসের আঁচ কমিয়ে দিন এবং চাল সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যাতে পাত্রের তলায় লেগে না যায়।
৩. ম্যাজিক ইনগ্রেডিয়েন্ট: চাল ভাল মতো সেদ্ধ হয়ে দুধ কিছুটা ঘন হয়ে এলে, আগে থেকে তৈরি করে রাখা মিল্ক পাউডার বা খোয়া ক্ষীরের মিশ্রণটি ঢেলে দিন। এটাই হল সেই 'ম্যাজিক ইনগ্রেডিয়েন্ট' বা জাদুকরী উপাদান, যা পায়েসকে নিমেষেই এক অপূর্ব টেক্সচার দেবে এবং রাবড়ির মতো ঘন ও ক্রিমি করে তুলবে।
৪. স্বাদ ও সুবাস: এরপর পাত্রে চিনি, জাফরান ভেজানো দুধ এবং এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। চিনি সম্পূর্ণ গলে যাওয়ার পর আরও ৫-৭ মিনিট একেবারে ঢিমে আঁচে ক্ষীর পায়েসটি রান্না করুন। এতে সমস্ত উপকরণের ফ্লেভার একে অপরের সঙ্গে দারুণভাবে মিশে যাবে।
৫. পরিবেশন: ক্ষীর বেশ ঘন হয়ে এলে গ্যাসের আঁচ বন্ধ করে দিন। ওপর থেকে কুচানো কাজু, আমন্ড ও পেস্তা ছড়িয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে নিন। দিয়ে দিন সামান্য পরিমানে এলাচের গুঁড়ো।
আপনি চাইলে এটি গরম গরম পরিবেশন করতে পারেন, অথবা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা, রাবড়ির মতো ক্রিমি ক্ষীরের স্বাদ চুটিয়ে উপভোগ করতে পারেন।