বাদাম বাটার তরকারি বাঙালির রান্নায় পোস্তর জনপ্রিয়তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। গরম ভাতের সঙ্গে আলু পোস্ত কিংবা ঝিঙে পোস্ত থাকলে আর বেশি পদের প্রয়োজন হয় না অনেকেরই। কিন্তু পোস্তর দাম বেশি থাকলে বা বাড়িতে পোস্ত না থাকলে কী করবেন? হাতের কাছে থাকা চিনাবাদাম দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন সুস্বাদু আলু-ঝিঙের তরকারি। বাদাম বাটার মিশেলে তরকারির ঝোল হবে ঘন, স্বাদেও আসবে অন্য রকমের মজাদার ভাব। সঠিক মশলা আর রান্নার কৌশল মেনে চললে এই পদটি ভাতের সঙ্গে জমে যাবে। রোজকার রান্নায় একটু বদল আনতে চাইলে এই রেসিপি একবার বাড়িতে করে দেখতেই পারেন।
আলু-ঝিঙের তরকারি বানাতে কী কী লাগবে?
এই রান্নার জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা সাধারণ কিছু মশলা আর কয়েকটি উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যাবে পদটি। লাগবে মাঝারি মাপের দু’টি আলু, দু’টি মাঝারি ঝিঙে, ৩-৪ টেবিল চামচ চিনাবাদাম, একটি কাঁচালঙ্কা, আধ চা-চামচ জিরে, এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন, সামান্য চিনি, সর্ষের তেল এবং প্রয়োজনমতো জল। চাইলে স্বাদ বাড়াতে অল্প কালোজিরেও ব্যবহার করতে পারেন।
প্রথমে তৈরি করে নিন বাদাম বাটা
এই রান্নার আসল আকর্ষণ হল বাদাম বাটা। প্রথমে চিনাবাদামগুলি শুকনো কড়াইয়ে অল্প আঁচে হালকা ভেজে নিন। বাদামের গায়ে সামান্য রং ধরলে এবং সুন্দর গন্ধ বেরোলে আঁচ বন্ধ করে দিন। ঠান্ডা হলে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে নিন। এরপর সামান্য জল দিয়ে মিক্সিতে মিহি করে বেটে নিন। খুব বেশি জল দেবেন না। বাদাম বাটা যেন ঘন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বেশি পাতলা হয়ে গেলে তরকারির ঝোলের ঘনত্ব ঠিক রাখা কঠিন হতে পারে।
কী ভাবে বানাবেন আলু-ঝিঙের তরকারি?
প্রথমে আলু ও ঝিঙে ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। আলু মাঝারি মাপের টুকরো করে কাটুন। ঝিঙেও লম্বাটে বা মাঝারি মাপের টুকরো করে কেটে রাখুন। এবার কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে আলুর টুকরোগুলি সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে হালকা ভেজে তুলে রাখুন। আলু পুরোপুরি সেদ্ধ করার প্রয়োজন নেই, শুধু হালকা ভাজা হলেই হবে।
একই কড়াইয়ে প্রয়োজন হলে আরও সামান্য তেল দিন। তেল গরম হলে জিরে বা কালোজিরে ফোড়ন দিন। ফোড়নের গন্ধ বেরোলে কাঁচালঙ্কা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। এরপর কাটা ঝিঙে দিয়ে দিন। অল্প নুন ও হলুদ মিশিয়ে মাঝারি আঁচে কয়েক মিনিট নাড়াচাড়া করুন। ঝিঙে থেকে নিজস্ব জল বেরোতে শুরু করবে। এবার আগে থেকে ভেজে রাখা আলু কড়াইয়ে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
এরপর সামান্য জল দিয়ে ঢেকে দিন, যাতে আলু ও ঝিঙে নরম হয়ে আসে। মাঝেমধ্যে ঢাকনা খুলে নাড়াচাড়া করবেন, যাতে তলায় লেগে না যায়। আলু প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে বাদাম বাটা দিয়ে দিন। এবার সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনমতো আরও সামান্য গরম জল দিতে পারেন। তবে একসঙ্গে বেশি জল দেবেন না, কারণ বাদাম বাটা মেশানোর পর ঝোল ধীরে ধীরে ঘন হয়ে আসবে।
পোস্তর মতো স্বাদ পেতে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?
বাদাম বাটা দেওয়ার পর কম আঁচে আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন। কাঁচা বাদামের গন্ধ চলে গেলে এবং ঝোল ঘন হয়ে এলে স্বাদমতো নুন ও এক চিমটে চিনি মিশিয়ে দিন। চিনি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে অল্প চিনি ঝিঙের স্বাদ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। রান্না করার সময় বারবার নাড়বেন, কারণ বাদাম বাটা কড়াইয়ের তলায় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
মনে রাখবেন, চিনাবাদাম দিয়ে তৈরি এই তরকারির স্বাদ পোস্তর মতো একেবারে হুবহু হবে না। তবে বাদামের মোলায়েম স্বাদ ও ঘন ঝোল আলু-ঝিঙের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। পোস্ত না থাকলে এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। ঝাল বেশি পছন্দ করলে কাঁচালঙ্কার পরিমাণ বাড়াতে পারেন। আবার হালকা স্বাদ চাইলে একটি কাঁচালঙ্কাই যথেষ্ট।
গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন বাদাম বাটা দিয়ে তৈরি আলু-ঝিঙের এই তরকারি। দুপুরের সাধারণ খাবারেও এতে আসবে নতুন স্বাদ। কম খরচে, সহজ উপকরণে এবং অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা যায় বলে রোজকার রান্নার তালিকায় এই পদটি জায়গা করে নিতে পারে।