Garam Masala At Home: বাড়ির রান্নাতেও রেস্তোরাঁর স্বাদ! ঠাকুমা-দিদিমার সেই 'ম্যাজিক' গরম মশলা বানান এভাবে

Garam Masala: বাজারে মেলে যে সমস্ত প্রক্রিয়াজাত গুঁড়ো মশলা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরের উদ্বায়ী তেল এবং স্বাভাবিক অ্যারোমা উবে যায়। ফলে রেস্তোরাঁর সেই চেনা স্বাদ আর পাওয়া যায় না।

Advertisement
বাড়ির রান্নাতেও রেস্তোরাঁর স্বাদ! ঠাকুমা-দিদিমার সেই 'ম্যাজিক' গরম মশলা বানান এভাবে গরম মশলা

রান্নাঘর থেকে কষানো মাংস কিংবা শাহী নিরামিষ তরকারির সুবাস আসছে, অথচ চেখে দেখার পর মনে হল- 'কী যেন একটা নেই!' কমবেশি প্রায় প্রতিটি হেঁশেলেই এই অভিজ্ঞতা চেনা। আমরা অনেকেই বাজার থেকে চটজলদি মশলার প্যাকেট কিনে এনে রান্নায় ঢালি। কিন্তু স্বাদ আর মেজাজ- কোনওটাই ঠিক মনের মতো জমে ওঠে না।

আসল রহস্যটা কিন্তু লুকিয়ে রয়েছে মশলার তাজা ঘ্রাণে। বাজারে মেলে যে সমস্ত প্রক্রিয়াজাত গুঁড়ো মশলা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরের উদ্বায়ী তেল এবং স্বাভাবিক অ্যারোমা উবে যায়। ফলে রেস্তোরাঁর সেই চেনা স্বাদ আর পাওয়া যায় না। অথচ একটু সময় বের করে যদি বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায় ঠাকুমা-দিদিমাদের আমলের সেই সিক্রেট গরম মশলা, তবে রান্নার স্বাদ বদলে যাবে এক নিমেষে। ২১টি গোটা মশলার এক আশ্চর্য রসায়নে তৈরি এই খাঁটি গরম মশলা কীভাবে বানাবেন বাড়িতে? রইল তার সহজ পাঠ।

কী কী লাগবে?

ধনে: ৫০ গ্রাম

জিরে: ২৫ গ্রাম

মৌরি: ২০ গ্রাম

গোলমরিচ: ১৫ গ্রাম

বড় এলাচ (কালো এলাচ): ১০ গ্রাম

ছোট এলাচ (সবুজ এলাচ): ১০ গ্রাম

লবঙ্গ: ৮-১০টি

দারচিনি: ২ ইঞ্চির ৩-৪টি টুকরো

তেজপাতা: ২টি

জয়ত্রী: ১টি

জায়ফল: ১টি (ছোট)

শাহী জিরে: ১ চা চামচ

স্টার অ্যানিস (চক্র ফুল): ১টি

কবাব চিনি: ১ চা চামচ

নাগকেশর: ১ চা চামচ

সাদা মরিচ: ১ চা চামচ

কালো জিরে: ১ চা চামচ

শুকনো আদা (শুঁঠ): ১ চা চামচ

হিং: ১/২ চা চামচ

কসুরি মেথি (ঐচ্ছিক): ১ চা চামচ

শুকনো গোলাপের পাপড়ি (ঐচ্ছিক): ১ চা চামচ

বানানোর প্রণালী

১. বাছাই ও পরিচ্ছন্নতা: প্রথমেই সবকটি গোটা মশলা ভাল করে দেখে নিন। ধুলোবালি বা ছোট ছোট কাঁকর থাকলে তা বেছে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।

২. হালকা ড্রাই রোস্ট: একটা ভারী তলার কড়াই মৃদু আঁচে বসান। ধনে, জিরে, মৌরি, গোলমরিচ, এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি সহ সমস্ত শক্ত মশলাগুলি একে একে কড়াইয়ে দিন। মনে রাখবেন, মশলা কিন্তু ভাজা ভাজা বা লাল করা চলবে না। উদ্দেশ্য শুধু মশলার আর্দ্রতা বা মোশ্চারটুকু দূর করা এবং তার সুবাস ফুটিয়ে তোলা। আঁচ যেন একেবারেই হালকা থাকে, যাতে মশলা পুড়ে তেঁতো না হয়ে যায়।

Advertisement

৩. ঠাণ্ডা করা: হালকা ভাজার গন্ধ বেরলেই মশলা কড়াই থেকে নামিয়ে একটি চ্যাপ্টা পাত্রে ছড়িয়ে দিন। পুরোপুরি ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। গরম অবস্থায় মশলা গুঁড়ো করলে তা বাষ্পের সংস্পর্শে এসে ভিজে যেতে পারে এবং গন্ধ নষ্ট হতে পারে।

৪. ব্লেন্ড করা: মশলা সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা হলে মিক্সিতে দিয়ে একদম মিহি করে গুঁড়ো করে নিন। আরও মিহি ও মসৃণ মিশ্রণ চাইলে একটি চালুনি দিয়ে ছেঁকে নিতে পারেন।

৫. সংরক্ষণ: কাঁচের একদম শুকনো, বাতাস-আটকানো জারে এই মশলা ভরে রাখুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখলে মাসের পর মাস এর সুবাস ও স্বাদ অটুট থাকবে।

রান্নায় ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

এই মশলা রান্নার শুরুতে কষানোর সময় দেওয়ার ভুল করবেন না। এটি একটি ফিনিশিং স্পর্শ।

পাঁঠার মাংস, কষা মুরগি, পনীর, ছানার ডালনা কিংবা ঘন ডাল- যে পদই হোক না কেন, রান্না নামানোর ঠিক এক মিনিট আগে কিংবা গ্যাস বন্ধ করে ওপর থেকে এক চিমটি ছড়িয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মশলার অ্যারোমা মিশে যাবে ঝোলের প্রতি অনুতে।

বাড়িতেই তৈরি এই এক চিমটি  ম্যাজিক মশলা আপনার সাধারণ ঘরের রান্নাকেও নিয়ে যাবে রেস্তোরাঁর স্তরে!

 

POST A COMMENT
Advertisement