রুটি, ভাত বাইরে কাঠফাটা রোদ, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভ্যাপসা গরম। এমন চরম আবহাওয়ায় শরীর এমনিতেই ক্লান্ত থাকে, সেই সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ে আমাদের হজমশক্তিও। তাই চিকিৎসকেরা বারবার হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
বাঙালির রোজকার ডায়েটে ভাত আর রুটি— দুটোই অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই হাঁসফাঁস গরমে দুপুরের পাতে কোনটা রাখা বেশি স্বাস্থ্যকর? অনেকেই এই নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। জেনে নিন, পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে গরমে দুপুরে ভাত নাকি রুটি— কোনটা খাওয়া বেশি উপকারী।
হজমের ক্ষেত্রে কোনটা এগিয়ে?
গরমে ভারী খাবার হজম করা শরীরের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। চিকিৎসকদের মতে, গমের তৈরি রুটির তুলনায় ভাতে ফাইবারের পরিমাণ বেশ কিছুটা কম থাকে। আর ফাইবার কম থাকায় ভাত হজম করা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সহজ।
যাঁদের গরমে একটু ভারী খাবার খেলেই পেট ফাঁপা, বুকজ্বালা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাঁদের জন্য দুপুরে রুটির বদলে ভাত খাওয়া বেশি আরামদায়ক।
শরীরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
জলীয় অংশ বেশি রয়েছে এমন খাবার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ভাত রান্না করার সময় তা প্রচুর পরিমাণে জল শুষে নেয়। ফলে দুপুরে ভাত খেলে শরীর অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা হাইড্রেশন পায়, যা গরমে অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, রুটি স্বভাবতই বেশ শুষ্ক। এটি হজম করার জন্য শরীরকে তার নিজের সঞ্চিত জল ব্যবহার করতে হয়। তাই শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে ভাতের জুড়ি মেলা ভার।
পুষ্টিগুণ ও ফাইবারের লড়াই
ভাত সহজে হজম হলেও, পুষ্টিগুণের দিক থেকে রুটিকে একেবারেই পিছিয়ে রাখা যাবে না। আটার তৈরি রুটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন এবং ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান মজুত থাকে।
সবচেয়ে বড় কথা, রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ভাতের চেয়ে কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেয় না। তবে গরমে ভাত খেলেও চিন্তার কিছু নেই; ভাতের সাথে পাতে যদি পর্যাপ্ত ডাল, স্যালাড এবং সবুজ শাকসবজি রাখা যায়, তবে পুষ্টির নিখুঁত ভারসাম্য বজায় থাকে।
দুপুরের পাতে তাহলে কী রাখবেন?
সব দিক বিচার করে গ্রীষ্মকালে দুপুরের খাবারের জন্য ভাতকেই সামান্য এগিয়ে রাখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ভাত পেট ঠান্ডা রাখে এবং ক্লান্ত শরীরে দ্রুত এনার্জি জোগায়।
তবে আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে বা আপনি ওজন কমানোর ডায়েটে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ভাতের পরিমাণের উপর কড়া নজর রাখতে হবে। চাইলে সাধারণ সাদা ভাতের বদলে দুপুরের পাতে ব্রাউন রাইসও রাখতে পারেন। সর্বোপরি, নিজের শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী ডায়েট নির্ধারণ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে যাই খান না কেন, এই গরমে দুপুরের খাবার যতটা সম্ভব হালকা রাখাই শ্রেয়।