সয়াবিন বাটার মশলা রেসিপি সপ্তাহান্তের রাতের খাওয়া মানেই বাঙালির পাতে চিকেন বা মাটন মাস্ট! বিশেষ করে নরম তুলতুলে নান, রুমালি রুটি বা তন্দুরির সঙ্গে চিকেন বাটার মশলা হলে তো আর কথাই নেই। কিন্তু রোজ রোজ একঘেয়ে মাংস খেতে কি আর ভাল লাগে? ধরুন, বাড়িতে হঠাৎ এমন কোনও অতিথি এলেন যিনি নিরামিষাশী। তখন উপায়? মাংসের সেই চেনা স্বাদ আর রেস্তরাঁর মতো রেশমি গ্রেভি যদি পাওয়া যায় স্রেফ সোয়াবিনেই, তবে কেমন হয়?
যারা ভাবেন সোয়াবিন মানেই রোগীর পথ্য, এই পদটি তাদের ধারণা এক লহমায় বদলে দিতে বাধ্য। প্রোটিনে ভরপুর সোয়াবিন দিয়ে খুব সহজেই বানিয়ে ফেলা যায় জিভে জল আনা সোয়াবিন বাটার মশলা। স্বাদ আর গন্ধে এটি হার মানাবে খোদ চিকেনকেও। কীভাবে বানাবেন এই অভিনব পদ? জেনে নিন সহজ রেসিপি।
কী কী লাগবে?
সোয়াবিন (সয়া চাঙ্কস): ২ কাপ
পেঁয়াজ: ২টি মাঝারি (খুব ঝিরি ঝিরি করে কুচানো)
টম্যাটো পিউরি: ৩ টেবিল চামচ (অথবা ২টি মাঝারি টম্যাটো বাটা)
আদা-রসুন বাটা: ১ টেবিল চামচ
কাজু ও চারমগজ বাটা: ২ টেবিল চামচ (একসঙ্গে মিহি করে বাটা)
টক দই: ২ টেবিল চামচ (জল ঝরিয়ে ফেটানো)
ফ্রেশ ক্রিম: ২ টেবিল চামচ
মাখন: ৩-৪ টেবিল চামচ (বাটার মশলায় মাখনের কোনও কার্পণ্য চলবে না)
কসৌরি মেথি: ১ চা চামচ
গুঁড়ো মশলা: হলুদ গুঁড়ো (আধা চা চামচ), কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো (দেড় চা চামচ), ধনে গুঁড়ো (১ চা চামচ), জিরে গুঁড়ো (আধা চা চামচ), গরম মশলা গুঁড়ো (আধা চা চামচ)
গোটা গরম মশলা: ছোট এলাচ (২টো), লবঙ্গ (৩টে), দারচিনি (১ টুকরো)
সাদা তেল: ২ টেবিল চামচ
নুন ও চিনি: স্বাদ অনুযায়ী
কীভাবে বানাবেন?
প্রথম ধাপ: সোয়াবিন প্রস্তুতি
প্রথমে ফুটন্ত গরম জলে সামান্য নুন দিয়ে সোয়াবিনগুলো ৫-৭ মিনিট সেদ্ধ করে নিন। এ বার ঠান্ডা জলে ধুয়ে দু'হাতের তালুর মাঝে চেপে সোয়াবিনের ভেতরের সব জল বের করে দিন। কড়াইতে ১ চামচ মাখন গরম করে তাতে সামান্য কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ও নুন দিয়ে সোয়াবিনগুলো হালকা লালচে করে ভেজে তুলে রাখুন। এতে সোয়াবিনের নিজস্ব কাঁচা গন্ধটা চলে যায় এবং একটা দারুণ তন্দুরি ফ্লেভার আসে।
দ্বিতীয় ধাপ: মশলার বেস তৈরি
কড়াইতে সাদা তেল ও ১ চামচ মাখন একসঙ্গে গরম করুন। তেল-মাখন গরম হলে গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ বেরোলে কুচিয়ে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিন। পেঁয়াজ সোনালি করে ভাজা হয়ে এলে আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষাতে থাকুন। কাঁচা গন্ধ চলে গেলে টম্যাটো পিউরিটা দিয়ে দিন।
তৃতীয় ধাপ: গ্রেভি কষানো
টম্যাটো একটু ভাজা ভাজা হয়ে এলে একে একে হলুদ, ধনে, জিরে এবং কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে দিন। মশলা যাতে পুড়ে না যায়, তার জন্য সামান্য গরম জল দিতে পারেন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে গ্যাসের আঁচ একদম কমিয়ে ফেটানো টক দই দিয়ে দিন। অনবরত নাড়তে থাকুন। দই মশলার সঙ্গে মিশে গেলে কাজু ও চারমগজ বাটা দিয়ে আরও মিনিট দুয়েক কষিয়ে নিন।
চতুর্থ ধাপ: সোয়াবিন যোগ ও ফিনিশিং টাচ
গ্রেভি থেকে মাখন ও তেল আলাদা হয়ে ওপরে ভেসে উঠলে স্বাদমতো নুন এবং ১ চামচ চিনি দিন (বাটার মশলা একটু মিষ্টি মিষ্টি হয়)। এ বার ভেজে রাখা সোয়াবিনগুলো দিয়ে মশলার সঙ্গে খুব ভাল করে মাখিয়ে নিন। পরিমাণ মতো ঈষদুষ্ণ গরম জল দিয়ে কড়াই ঢাকা দিন। ৫-৭ মিনিট মাঝারি আঁচে ফুটতে দিন।
পঞ্চম ধাপ: রেস্তরাঁর জাদু
গ্রেভি ঘন ও মাখো মাখো হয়ে এলে ঢাকা খুলে নিন। হাতের তালুতে কসৌরি মেথি সামান্য ঘষে নিয়ে ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন। সঙ্গে দিন গরম মশলা গুঁড়ো, ফ্রেশ ক্রিম এবং বাকি ১ চামচ মাখন। সবটা আলতো হাতে নেড়ে গ্যাস বন্ধ করে ৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন।
পরিবেশন:
ঢাকা খুললেই মাখন আর কসৌরি মেথির যে মোলায়েম গন্ধ নাকে আসবে, তাতেই মন ভরে যাবে। ওপর থেকে সামান্য ফ্রেশ ক্রিম আর ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে বাটার নান, কুলচা, জিরা রাইস বা গরম পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন। চিকেন বাটার মশলা যে কেউ মিস করবেন না, সে গ্যারান্টি রইল!