Sujir Payesh Recipe: চাল, সিমুই তো অনেক হল! এই কায়দায় বানিয়ে দেখুন সুজির পায়েস, সেরা খেতে

খুব কম মানুষই জানেন, সুজির পায়েস আর উত্তর ভারতের বিখ্যাত ‘সুজি কা হালুয়া’-র মধ্যে একটা সূক্ষ্ম অথচ দারুণ ফারাক রয়েছে।হালুয়া আমরা অনেকেই পুজো বা উৎসবের প্রসাদে খেয়েছি, কিন্তু দুধ দিয়ে তৈরি বাঙালির এই সুজির পায়েস অনেকটা নরম আর ক্রিমি।

Advertisement
চাল, সিমুই তো অনেক হল! এই কায়দায় বানিয়ে দেখুন সুজির পায়েস, সেরা খেতে   সুজির পায়েস

রবিবার মানেই যেন মেনুতে একটু অন্য রকমের আয়োজন। সে হোক কষা মাংস কিংবা মাছের ঝোল। কিন্তু দুপুরের ভরপেট খাওয়ার পর শেষ পাতে যদি একটু মিষ্টি না থাকে, তবে কি আর তৃপ্তি মিটে? বাঙালির পাতে খেজুর গুড়ের পায়েস বা ক্ষীর তো চিরকালই রাজত্ব করে, কিন্তু সব সময় কি আর এত ঝক্কি পোহানো সম্ভব? তখনই মনে পড়ে যায় মা-ঠাকুমার হাতের সেই ‘সুজির পায়েস’-এর কথা। খুব সাধারণ, অথচ মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়— এই মিষ্টি যেন এক অদ্ভুত আরাম।

খুব কম মানুষই জানেন, সুজির পায়েস আর উত্তর ভারতের বিখ্যাত ‘সুজি কা হালুয়া’-র মধ্যে একটা সূক্ষ্ম অথচ দারুণ ফারাক রয়েছে। হালুয়া আমরা অনেকেই পুজো বা উৎসবের প্রসাদে খেয়েছি, কিন্তু দুধ দিয়ে তৈরি বাঙালির এই সুজির পায়েস অনেকটা নরম আর ক্রিমি। কীভাবে বানাবেন দোকানের মতো সেই পারফেক্ট পায়েস? রইল এক সহজ গাইড। 

কিছু জরুরি টিপস, যা বদলে দেবে স্বাদ:

সবথেকে বড় ভুল আমরা অনেকেই করি সুজি ভাজার সময়। সুজি খুব হালকা ভাজলে পায়েসটা কেমন যেন আঠালো বা ‘প্যাচপ্যাচে’ হয়ে যায়। স্বাদও খুব একটা খোলে না। তাই সুজি ভাজার সময় ধৈর্য ধরুন। কড়াইতে শুকনো সুজি দিয়ে হালকা আঁচে ধৈর্য ধরে ততক্ষণই ভাজুন যতক্ষণ না সেটা গাঢ় বাদামি রঙের হয়ে যাচ্ছে। এই ভাজাটা যত নিখুঁত হবে, সুজির কাঁচা গন্ধ ততটাই উবে যাবে আর পায়েস হবে ঝরঝরে ও সুস্বাদু।

কীভাবে তৈরি করবেন?

১. প্রথমে কড়াইতে সুজিটা শুকনো ভেজে তুলে রাখুন। এরপর সেই একই কড়াইতে একটু ঘি দিন। তাতে কাজুবাদাম আর কিসমিস হালকা করে ভেজে তুলে নিন।

২. এবার কড়াইতে আরও একটু ঘি দিয়ে তেজপাতা আর দু-তিনটি ছোট এলাচ ফোড়ন দিন। ঘিয়ের সেই গন্ধে চারপাশ ম ম করে উঠবে।

৩. ভাজা সুজিটা এবার কড়াইতে দিয়ে দিন। ঘিয়ের সঙ্গে সুজিটাকে আরও মিনিট দুয়েক নাড়াচাড়া করুন।

Advertisement

৪. এবার পরিমাণ মতো গরম জল দিন। সুজিটা জল টেনে সেদ্ধ হতে মিনিট পাঁচেক সময় নেবে।

৫. এই পর্যায়েই যোগ করুন দুধ। দুধ দেওয়ার কারণেই পায়েসের টেক্সচারটা আসে দারুণ ক্রিমি।

৬. সবশেষে চিনি। আপনি চাইলে সাদা চিনির বদলে হালকা ব্রাউন সুগারও ব্যবহার করতে পারেন, এতে পায়েসের রঙে একটা চমৎকার আভিজাত্য আসে।

৭. শেষে ভেজে রাখা কাজু-কিসমিস ছড়িয়ে দিন।

পরিবেশন:

সুজির পায়েস নামানোর সময় একটু পাতলা মনে হতে পারে, কিন্তু চিন্তা নেই। ঠান্ডা হলে এটা এমনিতেই একটু ঘন হয়ে আসবে। গরম গরম এই পায়েসের সঙ্গে যদি একটা মুচমুচে মশলা পুরি থাকে, তবে তো আর কথাই নেই!

ফ্রিজে থেকে গিয়ে যদি পায়েসটা পরের দিন একটু শুকনো মনে হয়, তবে গরম করার সময় সামান্য দুধ আর এক চামচ ঘি মিশিয়ে নেবেন। দেখবেন, আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আপনার হাতের এই মিষ্টি। ছুটির দুপুরের অলস সময়ে এই সাধারণ পায়েসই যেন হয়ে ওঠে অসামান্য এক তৃপ্তি!

 

POST A COMMENT
Advertisement