পাতে পড়লে ভাতের থালা নিমেষে সাফ, স্বাদ ও পুষ্টির বিস্ফোরণ ‘তিনরত্ন ডাল’Tinratna Dal Recipe: রোজ রোজ সেই একঘেয়ে মাছের ঝোল, মাংসের কষা কিংবা ডিমের ডালনা কারই বা ভালো লাগে বলুন তো? আর যাঁরা খাঁটি নিরামিষভোজী, তাঁদের প্রতিদিনের প্রোটিনের সঠিক জোগান পাওয়া নিয়ে তো চিন্তার শেষ থাকে না। রোজকার সেই চেনা ডাল খেতে খেতে যদি মুখে অরুচি ধরে গিয়ে থাকে, তবে এবার দুপুরের মেনুতে আনুন এক রাজকীয় বদল। স্বাদ আর পুষ্টির এক অপূর্ব যুগলবন্দি নিয়ে আজ পাতে হাজির হতে পারে ‘তিনরত্ন ডাল’। বানানো যেমন সহজ, তেমনই এর স্বাদ এককথায় লাজওয়াব। গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত হোক কিংবা রাতের নরম রুটি, উভয়ের সঙ্গেই এই পদ একেবারে জমে ক্ষীর!
হাতে কী কী উপকরণ থাকা চাই?
রসুইঘরে এই খাস পদটি রাঁধতে বেশি কিছু তামঝামের প্রয়োজন নেই। ঝটপট গুছিয়ে নিন এই সামান্য কয়েকটি উপকরণ।
এক কাপ ছোলার ডাল, সবুজ মুগ ডাল ও অড়হর ডালের একটি সুষম মিশ্রণ।
রান্নার জন্য লাগবে পরিমাণমতো হলুদগুঁড়ো, কাঁচালঙ্কা, মিহি করে কাটা পেঁয়াজ কুচি, আদা ও রসুন কুচি।
ফোড়নের জন্য জোগাড় রাখুন গোটা জিরে, শুকনো লঙ্কা এবং এক চিমটে হিং।
এছাড়া স্বাদ বাড়াতে লাগবে গরম মশলা গুঁড়ো, খাঁটি সর্ষের তেল, গাওয়া ঘি, নুন এবং কুচানো ধনেপাতা।
বানানোর সহজ কায়দা
রান্নাটি করতে যেমন কম সময় লাগে, তেমনই এর পদ্ধতিও অত্যন্ত সরল।
১. প্রথমে একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে সামান্য হলুদগুঁড়ো, চেরা কাঁচালঙ্কা ও স্বাদমতো নুন দিয়ে ডালের মিশ্রণটি ঢেলে দিন। ডালগুলো খুব ভালো করে সেদ্ধ করে নিয়ে একটি পাত্রে নামিয়ে রাখুন।
২. এবার অন্য একটি কড়াই আঁচে বসিয়ে তাতে পরিমাণমতো সর্ষের তেল গরম করুন। তেল চড়চড় করে উঠলে তাতে গোটা জিরে এবং শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন।
৩. মশলার মিষ্টি সুগন্ধ ছড়াতে শুরু করলে কড়াইয়ে এক চিমটে হিং দিন। এরপর আদা কুচি, রসুন কুচি ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা আঁচে লালচে করে ভেজে নিন।
৪. পেঁয়াজ-রসুন ভাজা হয়ে গেলে কড়াইয়ে সেদ্ধ করে রাখা ডালটি ঢেলে দিন। প্রয়োজনে সামান্য নুন যোগ করতে পারেন। এবার ঢিমে আঁচে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন, যাতে মশলার স্বাদ ডালের সঙ্গে চমৎকার মিশে যায়।
৫. ডাল মাখোমাখো হয়ে এলে উপর থেকে এক চামচ গাওয়া ঘি এবং গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। সবশেষে নামানোর ঠিক আগে উপর থেকে তাজা ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিলেই কেল্লাফতে!
তৈরি আপনার ধোঁয়া ওঠা গরম গরম ‘তিনরত্ন ডাল’। একঘেয়েমি কাটাতে এক বাটি এই ডাল আর পাশে সামান্য একটু আমের আচার, ব্যাস, দুপুরের সাধারণ আহারই নিমেষে হয়ে উঠবে একদম রাজকীয়।