তরমুজ গ্রীষ্মের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে প্রচুর পরিমাণে তরমুজ দেখা যায় এবং মানুষের প্রিয় ফলগুলির মধ্যে এটি একটি। তীব্র গরমে, ফ্রিজ থেকে সদ্য বের করা ঠান্ডা, লাল এবং মিষ্টি তরমুজ শরীরের ভেতর পর্যন্ত শীতল করে দেয়। মানুষের মনে হয় যেন তারা এক স্বর্গীয় সুখ খুঁজে পেয়েছে। তরমুজ কেবল একটি ফলই নয়, এই ফল গ্রীষ্মকালে শরীরকে সতেজ ও জলপূর্ণ রাখার একটি চমৎকার উপায়। কিন্তু আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আজকাল কিছু তরমুজ দেখতে অতিরিক্ত লাল মনে হলেও মিষ্টি মনে হয় না।
অনেকে তরমুজের সৌন্দর্য ও লাল রঙের আকর্ষণে কিনে ফেলেন। কিন্তু পরে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে, অনুশোচনা করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে, এই তরমুজ বিপজ্জনক রাসায়নিক এবং কৃত্রিম রং প্রয়োগ করে পাকানো হয়। যে ফলটি আমাদের সুস্বাস্থ্য এনে দেওয়ার কথা ছিল, তা অজান্তেই পেটে ব্যথা, অ্যালার্জি এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই, তরমুজ খাওয়ার আগে এটি আসল নাকি নকল—তা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জেনে নিন কীভাবে চিনবেন, তরমুজ আসল না নকল।
১. সুতি কাপড়ের পরীক্ষা
তরমুজের একটি ছোট টুকরো কেটে নিন এবং একটি শুকনো সুতির কাপড় বা তুলোর ওপর আলতো করে ঘষুন। যদি কাপড় বা তুলা গাঢ় লাল রং ধারণ করে, তবে এটি একটি লক্ষণ হতে পারে যে তরমুজটিতে কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে। আসল তরমুজের রং সহজে কাপড়ে লেগে যায় না।
২.জলের পরীক্ষা
তরমুজের একটি টুকরো পরিষ্কার জলে ডুবিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য রেখে দিন। যদি জলের রং গোলাপি বা লাল হয়ে যায়, তবে এটি ভেজালের লক্ষণ হতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা তরমুজ জলে কোনও রং ছড়ায় না।
৩. স্বাদ ও গঠন দেখে শনাক্তকরণ
যদি তরমুজটি ভেতর থেকে দেখতে লাল মনে হয়, কিন্তু এর স্বাদ পানসে হয়। অথবা যদি এতে সামান্য অদ্ভুত কোনও গন্ধ থাকে কিংবা এটি অতিরিক্ত রসালো মনে হয়—তবে সম্ভবত এটি রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো হয়েছে।
৪. 'ফিল্ড স্পট' বা দাগ দেখে শনাক্তকরণ
তরমুজটি আসল নাকি নকল, তা নিশ্চিত করার জন্য এর নিচের দিকের অংশটি-যা ফিল্ড স্পট নামে পরিচিত- মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করুন। যদি ওই অংশটি হলুদ বা হালকা ক্রিম রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে এটি প্রাকৃতিকভাবেই পেকেছে। অন্যদিকে, যদি সেখানে সাদা বা সবুজ রঙের দাগ দেখা যায়, তবে তা নির্দেশ করে যে তরমুজটি কাঁচা অবস্থায়ই গাছ থেকে পেড়ে ফেলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে।
৫. দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া
যদি তরমুজটি কেনার ২-৩ দিনের মধ্যেই নষ্ট হতে শুরু করে কিংবা তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে, তবে এটি একটি লক্ষণ হতে পারে যে তরমুজটিতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে।
৬. বোঁটা পরীক্ষা করুন
তরমুজটি আসল নাকি নকল, তা আপনি এর বোঁটা দেখেও বুঝতে পারবেন। তরমুজের বোঁটা থেকে ফলটির পাকা বা না-পাকা অবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। একটি শুকনো ও কালচে বোঁটা নির্দেশ করে যে, ফলটি প্রাকৃতিকভাবেই পেকেছে। অন্যদিকে, একটি সবুজ ও সতেজ বোঁটা দেখে মনে হতে পারে যে, ফলটি কাঁচা অবস্থাতেই পেড়ে ফেলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়েছে।
৭. উপরিভাগের দাগ বা চিহ্ন
তরমুজের বাইরের উপরিভাগটির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। যদি এর গায়ে কোনও ফাটল, অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কিংবা ছোট ছোট ইনজেকশনের ছিদ্রের মতো দাগ দেখা যায়। তবে তা এই ইঙ্গিত দেয় যে—ফলটি পাকানোর জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে।