বিশ্বের সবথেকে দামি চাল।-ফাইল ছবিভাত ভারতীয় খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশজুড়ে প্রতিদিনের রান্নায় ভাতের ব্যবহার অপরিহার্য। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ৬ হাজারেরও বেশি ধরণের চাল উৎপাদন হয়। যার গড় দাম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। তবে জানেন কি, এমন একটি চাল রয়েছে যার ১ কেজির দামে একটি স্মার্টফোন কেনা সম্ভব?
বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের ‘কিনমেমাই প্রিমিয়াম রাইস’ ২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পায়। শুধু দাম নয়, এর উৎপাদন পদ্ধতি ও স্বাদ, সব মিলিয়ে এই চালকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
৮৪০ গ্রামের একটি বাক্সের দাম প্রায় ১০,৮০০ জাপানি ইয়েন। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৬,০০০-৭,০০০ টাকা। বাজারে বর্তমানে এই চালের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১২,৫০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
এত দাম কেন?
কিনমেমাই কোনও সাধারণ চাল নয়। এটি জাপানের টয়ো রাইস কর্পোরেশন উৎপাদন করে। পাঁচ ধরনের প্রিমিয়াম ধানের জাত, যেমন কোশিহিকারি ও পিকামারু মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ চাল। ধান সংগ্রহ করা হয় জাপানের বিখ্যাত কৃষি অঞ্চল গুনমা, নাগানো ও নিগাতা থেকে। এই চালের উচ্চ মূল্যের অন্যতম কারণ এর দীর্ঘ ও বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি।
ফসল তোলার পর সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আনা হয় না। প্রায় ছ'মাস ধরে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। সংস্থার দাবি, এতে চালের স্বাদ ও গঠন আরও উন্নত হয়। এছাড়া ব্যবহৃত হয় পেটেন্ট করা 'বাফিং' প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে চালের বাইরের স্তর বিশেষভাবে পরিশোধন করা হয়। তবে পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়।
স্বাদ কেমন?
রান্না করার পর এই চালের দানা ঝকঝকে ও স্বচ্ছ দেখায়, প্রায় হিরের মতো উজ্জ্বল। স্বাদে এটি সাধারণ চালের তুলনায় বেশি মিষ্টি ও হালকা বাদামি ফ্লেভারযুক্ত। যারা এই চালের ভাত চেখে দেখেছেন, তাঁদের মতে এর গঠন ক্রিমি ও মাখনের মতো নরম। এবং মুখে দিলেই প্রায় গলে যায়।
সীমিত উৎপাদন
প্রতি বছর মাত্র ১,০০০ বাক্স এই চাল উৎপাদন করা হয়। প্রতিটি বাক্সে থাকে ছটি ১৪০ গ্রামের ছোট প্যাকেট। জাপানে এটি বিলাসবহুল উপহার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।