গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক উদ্বেগের ফলে শরীরের মেটাবলিজমে সমস্যা হয় এবং চুলের বৃদ্ধি 'টেলোজেন ফেজে' চলে যায়।5 Scientific Reasons for Hair Loss: আজকাল বয়স নির্বিশেষে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই চুল পড়ার সমস্যা এক মারাত্মক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন চিরুনি আঁচড়ানোর সময় কিংবা স্নান করার পর মুঠো মুঠো চুল উঠে আসতে দেখলে যে কারও মাথায় হাত পড়ে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক বলে ধরা হয়, কিন্তু এর চেয়ে বেশি চুল পড়তে থাকলে এবং নতুন চুল না গজালে তা টাক পড়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বাজারে উপলব্ধ দামী দামী শ্যাম্পু, তেল বা হেয়ার প্যাক ব্যবহার করেও অনেক সময় কোনও ফল পাওয়া যায় না। কারণ, সমস্যাটি মাথায় নয়, লুকিয়ে থাকে শরীরের ভেতরের নানা বৈজ্ঞানিক কারণে।
চুল পড়ার প্রথম এবং অন্যতম বড় কারণ হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে 'ডিএইচটি' (Dihydrotestosterone) হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে চুলের ফোলিকল বা গোড়া ছোট হতে শুরু করে এবং চুল পাতলা হয়ে ঝরে পড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায়, সন্তান জন্মের পর কিংবা থাইরয়েড ও পিসিওডির (PCOD) সমস্যায় হরমোনের তারতম্যের কারণে প্রচুর চুল পড়ে। দ্বিতীয় কারণটি হলো পুষ্টির অভাব। শরীরে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি-১২ এর অভাব ঘটলে রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়, ফলে চুলের গোড়া পুষ্টি পায় না এবং চুল দুর্বল হয়ে ঝরে যায়।
তৃতীয় বড় কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক উদ্বেগের ফলে শরীরের মেটাবলিজমে সমস্যা হয় এবং চুলের বৃদ্ধি 'টেলোজেন ফেজ' বা বিশ্রান্তি পর্যায়ে চলে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ বলা হয়, যার ফলে দু-তিন মাস পর হঠাৎ করেই অতিরিক্ত চুল পড়তে দেখা যায়।
চতুর্থত, স্ক্যাল্পের সংক্রমণ ও দূষণ। মাথার ত্বকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, অতিরিক্ত খুশকি বা সেবাম জমে মাথার ত্বকের ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে গেলে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। পঞ্চমত, জিনগত বা বংশগত কারণ। পরিবারে আগে কারও অল্প বয়সে টাক পড়ার ইতিহাস থাকলে, বংশানুক্রমিকভাবে অ্যান্ডোজেনিক অ্যালোপেসিয়ার কারণে চুল পড়তে পারে। তাই শুধু বাহ্যিক তেল-শ্যাম্পু পরিবর্তন না করে, সঠিক কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।