Akshaye Khanna: ব্রেকফাস্ট খান না, সারাদিন কী খেয়ে বয়স ধরে রেখেছেন অক্ষয় খান্না?

এই বক্তব্য শুনে অনেকেই অবাক। কারণ সাধারণভাবে ব্রেকফাস্টকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে ধরা হয়। তাহলে ব্রেকফাস্ট না করলে শরীরের উপর কী প্রভাব পড়ে? আদৌ কি ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যকর?

Advertisement
ব্রেকফাস্ট খান না, সারাদিন কী খেয়ে বয়স ধরে রেখেছেন অক্ষয় খান্না?
হাইলাইটস
  • ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ভয়ংকর ‘রেহমান ডাকাত’ চরিত্রে অভিনয় করে ফের চর্চার কেন্দ্রে অক্ষয় খান্না।
  • খলনায়কের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ভয়ংকর ‘রেহমান ডাকাত’ চরিত্রে অভিনয় করে ফের চর্চার কেন্দ্রে অক্ষয় খান্না। খলনায়কের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় নিজেই জানিয়েছেন, তিনি বহু বছর ধরেই সকালের ব্রেকফাস্ট করেন না। সরাসরি দুপুরের খাবার দিয়ে তাঁর দিনের খাদ্যাভ্যাস শুরু হয়, তারপর রাতে খান রাতের খাবার।

এই বক্তব্য শুনে অনেকেই অবাক। কারণ সাধারণভাবে ব্রেকফাস্টকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে ধরা হয়। তাহলে ব্রেকফাস্ট না করলে শরীরের উপর কী প্রভাব পড়ে? আদৌ কি ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যকর?

সকালের ব্রেকফাস্ট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাতভর উপবাসের পর সকালের ব্রেকফাস্ট শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। এটি বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং সারাদিনের কাজের জন্য শরীর ও মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করে। পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট মনোযোগ বাড়ায়, কর্মক্ষমতা উন্নত করে এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।

ব্রেকফাস্ট না করলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ সংক্রান্ত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ব্রেকফাস্ট না করা মানুষের মধ্যে এই ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

শক্তির ঘাটতি:
ব্রেকফাস্ট না করলে শরীর প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ পায় না। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়া:
সকালের খাবার না খেলে বিপাকক্রিয়া ধীরে চলে, যার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা:
ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে অনেকেই দুপুর বা রাতে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্যালোরির ভারসাম্য নষ্ট হয়।

মনোযোগ ও মেজাজে প্রভাব:
ব্রেকফাস্ট না করলে বিরক্তি, মানসিক চাপ ও কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে, যা সারাদিনের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।

হজমের সমস্যা:
দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকলে অ্যাসিডিটি, গ্যাস ও পেট ব্যথার মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

Advertisement

তাহলে কি ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়াই ভালো?
কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা উপবাসের অংশ হিসেবে ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া হয়। সঠিক নিয়মে ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে এটি কিছু মানুষের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে এই পদ্ধতি সবার জন্য উপযোগী নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ ব্রেকফাস্ট না করেন, তাহলে দিনের প্রথম খাবার অবশ্যই পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়া উচিত। শুধুমাত্র চা বা কফি যথেষ্ট নয়, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা জরুরি।

অক্ষয় খান্না জানিয়েছেন, তিনি শুধু ঘরে রান্না করা দুপুর ও রাতের খাবার খান এবং মাঝখানে কিছুই খান না, এমনকি বিস্কুটও নয়। সন্ধেয় শুধু এক কাপ চা পান করেন।

যদিও ‘ধুরন্ধর’-এর রেহমান ডাকাত ব্রেকফাস্ট না করেও নিজেকে ফিট রেখেছেন, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সকালের ব্রেকফাস্ট শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

 

POST A COMMENT
Advertisement