Antacid: রোজই গ্যাস-অম্বলের ওষুধ খাচ্ছেন? অজান্তেই বিকল হচ্ছে শরীরের এসব অঙ্গ, সতর্ক করছেন AIIMS-র চিকিৎসকেরা

Health Tips: দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) বা এমস-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছ ভাবে এই ওষুধের ব্যবহার আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে, যা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ঠিক নয়।

Advertisement
রোজই গ্যাস-অম্বলের ওষুধ খাচ্ছেন? অজান্তেই বিকল হচ্ছে শরীরের এসব অঙ্গ, সতর্ক করছেন AIIMS-র চিকিৎসকেরাওষুধ

পেটে একটু গ্যাস বা অম্বল হলেই অনেকে চটজলদি গ্যাসের ওষুধ বা অ্যান্টাসিড খেয়ে নেন। কারও কারও আবার পকেটে বা ব্যাগে সব সময়ই মজুত থাকে এই ধরনের ওষুধ। পেটে সামান্য অস্বস্তি হলেই মুঠো মুঠো ওষুধ গিলে নেন তারা। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নিরীহ মনে হওয়া এই অভ্যাসটিই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) বা এমস-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছ ভাবে এই ওষুধের ব্যবহার আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে, যা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ঠিক নয়।

দিল্লির এমস-এর 'গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি অ্যান্ড হিউম্যান নিউট্রিশন' বিভাগের অধ্যাপক ডা. শালিমার এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন অনেক রোগীই চিকিৎসকের কাছে আসেন, যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে বা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি গ্যাস-অম্বলের ওষুধ খেয়েছেন। ওষুধের এই ‘ওভারডোজ’ বা মাত্রারিক্ত ব্যবহারের ফলে তাঁদের শরীরে নানা রকম জটিলতা দেখা যায়। তাই কোনও ওষুধকেই খুব সাধারণ মনে করে বারবার খাওয়া মোটেও উচিত নয়। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হতে পারে।

হাড় দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘ দিন ধরে অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেলে শরীরে ক্যালশিয়াম এবং অন্যান্য জরুরি পুষ্টিগুণের শোষণ বা অ্যাবজর্বশনে বাধা পড়ে। এর পরিণতি হিসেবে হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল ও ভঙ্গুর হতে শুরু করে। সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যাঁদের আগে থেকেই হাড়ের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও অনেক বেশি।

বাড়তে পারে নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণের ঝুঁকি

ডা. শালিমারের মতে, যে সব মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত অ্যান্টাসিড খান, তাঁদের ফুসফুসেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। নিউমোনিয়া একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা রোগীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটাতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ খাওয়া একেবারেই অনুচিত।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, গ্যাস, বদহজম বা অম্বলের হাত থেকে বাঁচতে ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা যত তাড়াতাড়ি কমানো যায়, ততই মঙ্গল। চিকিৎসক যদি নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য এই ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন, তবে তা ঠিক আছে। কিন্তু নিজের মর্জিমাফিক মাসের পর মাস এই ওষুধ খেয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ক্ষতিকর।

গ্যাস ও অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচতে কী করবেন?

জীবনযাত্রায় সামান্য বদল আনলেই এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যেমন:

দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না। অল্প অল্প করে বারবার হালকা খাবার খান।

মদ্যপান থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন।

ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত ভাজাভুজি এবং মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন অথবা জোরে হাঁটার অভ্যাস তৈরি করুন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।

প্রতি রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা

ডা. শালিমার সতর্ক করে বলেছেন, যদি বারবার গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালার সমস্যা হয় এবং তা দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকে, তবে বিষয়টিকে মোটেও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। বারবার গ্যাসের ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি খোঁজার বদলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি। এর ফলে রোগের সঠিক কারণ জানা যায় এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসাও শুরু করা সম্ভব হয়।

 

 

POST A COMMENT
Advertisement