চুল পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ জানুন।টাক পড়ার পিছনে শুধু বয়স বা দূষণই দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে থাকে জিনগত কারণ। অর্থাৎ পরিবারে বাবা, দাদু, কাকা বা অন্য পূর্বপুরুষদের অল্প বয়সে টাক পড়ার ইতিহাস থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সেই প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যামিলিতে একাধিক সদস্যের টাক থাকলে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে চুল পাতলা হওয়া বা টাক পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে ‘অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া’ বা বংশগত টাক পড়ার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের টাক পড়া সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয়। প্রথমে কপালের দু’পাশ থেকে চুল উঠে যেতে থাকে। পরে মাথার মাঝের অংশেও চুল পাতলা হতে শুরু করে। অনেকেই প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের ঘনত্ব দ্রুত কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র জিনগত কারণ থাকলেই যে টাক পড়বে, এমন নয়। জীবনযাত্রা, স্ট্রেস, অনিয়মিত ঘুম, খারাপ খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান এবং হরমোনের পরিবর্তনের মতো বিষয়ও সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে পরিবারে টাক পড়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে বলেই মত চিকিৎসকদের।
তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে টাক পড়া নিয়ন্ত্রণের একাধিক উপায় রয়েছে। শুরুতেই সমস্যা ধরা পড়লে ওষুধ, বিশেষ শ্যাম্পু, PRP থেরাপি বা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের মতো পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। তাই চুল অস্বাভাবিক ভাবে পড়তে শুরু করলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাই বলছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে চুল পড়ার গতি অনেকটাই কমানো যায়। পাশাপাশি প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান এবং মানসিক চাপ কম রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জিনগত প্রবণতা থাকলেও সুস্থ জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।