
একটি ওধুষের দোকানে রাখা নানা রকম সিরাপ: রয়টার্সকাফ সিরাপে নেশা করার প্রবণতা নতুন নয়। মাদক হিসেবে বহু কাফ সিরাপকে ব্যবহার করে মাদকাসক্তরা। শুধু কাফ সিরাপ নয়, অন্যান্য নানা সিরাপও নেশার বস্তু হয়ে উঠছে দ্রুত। এই মাদক চিরতরে ঠেকাতে এবার কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। ড্রাগ রুল ১৯৪৫ আইনের সংশোধন করা হল।
নয়া নিয়মে সরকার জানাল, বেশি মাত্রায় অ্যালকোহল রয়েছে, এই ধরনের সিরাপ বা টনিককে 'শিডিউল H1' শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এবং এই শ্রেণির সিরাপ ও টনিক ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। এই একই তালিকায় ঘুমের ওষুধ, তীব্র ব্যথানাশক এবং আসক্তির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে এমন অত্যন্ত সংবেদনশীল ওষুধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিডিউল K ছাড়েরও অবসান
এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, 'শিডিউল K'তেও সংশোধন করেছে। এই সংশোধনী অনুসারে, ৩০ মিলিলিটারের চেয়ে বড় এবং ১২% এর বেশি অ্যালকোহলযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ ও বিক্রয় থেকে নির্দিষ্ট ছাড় আর প্রযোজ্য হবে না। এই পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হল উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র পর্যন্ত এই ধরনের ওষুধের সম্পূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

কী পরিবর্তন হবে?
এখনও পর্যন্ত এই ধরনের ওষুধ সহজেই পাওয়া যেত। কিন্তু এখন এগুলিকে ওষুধ বিধিমালার 'শিডিউল H1' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় ঘুমের ওষুধ, ব্যথানাশক এবং নেশার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে এমন ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মানে হল, এই ওষুধগুলি এখন থেকে আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যাবে না। দোকানদারদের সম্পূর্ণ রেকর্ড রাখতে হবে এবং বোতলের গায়ে সতর্কতামূলক লেবেল লাগাতে হবে। সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে কারণ মানুষ প্রায়শই নেশা করার জন্য এই সিরাপ ও টনিকগুলির অপব্যবহার করে থাকে।
প্রথমে কী ছিল?
এই বিধির খসড়াটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে জনগণের সামনে পেশ করা হয়েছিল, যাতে তারা তাদের মতামত বা আপত্তি জানাতে পারে। ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কেউ কোনও আপত্তি জানায়নি। এরপরে, সরকার ড্রাগ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে এখন এটিকে আইনে পরিণত করেছে। এই নতুন নিয়মটি গ্যাজেটে প্রকাশিত হওয়ার ছয় মাস পর কার্যকর হবে, অর্থাৎ প্রায় ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এটি আরও কঠোর হতে শুরু করবে। ততদিন পর্যন্ত, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং খুচরা বিক্রেতারা তাদের মোড়ক ও বিক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তন করার জন্য সময় পাবে।