প্রতীকী ছবি ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে সবে এপ্রিলের শেষ, কিন্তু পারদ চড়ছে হু হু করে। ইতিমধ্যেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে বাংলা। রোদে বেরলেই দরদর করে ঘাম, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্লান্তি। মাঝে মধ্যেই কি মাথাটা একটু ঘুরে উঠছে? কিংবা ঝিমঝিম করছে শরীর? অবহেলা করবেন না, এগুলো কিন্তু স্রেফ গরমের অস্বস্তি নয়, হতে পারে মারাত্মক ডিহাইড্রেশনের আগাম সতর্কবার্তা।
শরীর থেকে যে পরিমাণ জল ও খনিজ বেরিয়ে যাচ্ছে, তার সমপরিমাণ জল শরীরে না পৌঁছলেই এই বিপত্তি ঘটে। গরমকালে ঠিক এই সমস্যা নিয়েই চিকিৎসক সন্তোষ কুমার আগরওয়াল এক জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। জেনে নিন তাঁর অভিজ্ঞ পরামর্শ।
কেন জলই জীবন?
আমাদের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশই জল। এই জল শুধুমাত্র তেষ্টা মেটায় না, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে, রক্ত সঞ্চালন, হজম এবং কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। গরমকালে যখন ঘাম বেশি হয়, তখন শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য অনেকটা জল বেরিয়ে যায়। সেই ঘাটতি পূরণ না হলে শরীরের ভারসাম্য বিগড়ে গিয়ে শরীর 'ওভারহিটেড' বা মাত্রাতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।
অনেকেই শুরুর দিকের লক্ষণগুলোকে স্রেফ ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যান। ডাক্তার আগরওয়ালের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলেই সাবধান হওয়া প্রয়োজন:
* মুখ ও গলা শুকিয়ে আসা।
* অল্পতেই ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব।
* মাথা ঘোরা বা চিনচিনে মাথা ব্যথা।
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা রঙের পরিবর্তন (গাঢ় হলুদ হওয়া)।
* মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা কোনও কাজে মন বসাতে না পারা।
মনে রাখবেন, শরীর যখন জলের প্রয়োজন অনুভব করে, সব সময় যে খুব তেষ্টা পাবেই- এমনটা নয়। বিশেষ করে যারা সারা দিন এসি-তে বসে কাজ করেন, তাদের তেষ্টা পাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, অথচ অজান্তেই শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে।
সে ক্ষেত্রে দিনে কতটা জলের প্রয়োজন?
গরমের দিনে সুস্থ থাকতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩.৫ লিটার জল খাওয়া জরুরি। তবে এই পরিমাণ ব্যক্তিবিশেষে আলাদা হতে পারে। যারা রোদে ঘোরাঘুরি করেন বা শারীরিক কসরত করেন, তাদের জলের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা করবেন না, বরং নির্দিষ্ট সময় অন্তর অল্প অল্প করে জল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
শুধু জল নয়, ডায়েটে থাকুক আরও কিছু
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাধারণ জলের পাশাপাশি, বেশ কিছু প্রাকৃতিক পানীয় জাদুর মতো কাজ করে:
* নারকেলের জল ও ওআরএস (ORS): ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো যে খনিজগুলো বেরিয়ে যায়, তা ফিরিয়ে দিতে ডাবের জল আর ওআরএস গুরুত্বপূর্ণ।
* দইয়ের ঘোল ও লেবুর শরবত: এগুলো শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
* ফল: এই গরমে তরমুজ, শসা, বা টমেটোর মতো জলীয় ফল ডায়েটে রাখুন। এতে শরীরের জলের অভাব মিটবে এবং জরুরি মিনারেল পাওয়া যাবে।
কখন পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে?
কখনও কখনও ডিহাইড্রেশন প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে-
* তীব্র তেষ্টা সত্ত্বেও, যখন বুঝবেন জল গিলতে কষ্ট হচ্ছে।
* প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
* হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে।
* অজ্ঞান হয়ে পড়ার মতো অবস্থা।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং যাদের আগে থেকেই কোনও ক্রনিক রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ডিহাইড্রেশন কয়েক গুণ বেশি ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
প্রখর রোদে সুস্থ থাকতে তেষ্টা পাওয়ার আগেই শরীরের যত্ন নিন। প্রচুর জল পান করুন, ছাতা ব্যবহার করুন আর শরীর খারাপ লাগলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।