মাছের কাঁটা ফুটলে কী করবেন?(পরামর্শে বিশিষ্ট ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা: অমিতাভ ভট্টাচার্য)
মাছ প্রেমী বাঙালি। তাই আমাদের গলায় কাঁটা আটকাবে না তো কার! আর কাঁটা আটকালেই শুকনো ভাত, রুটি, কলা খাওয়া শুরু করে দেন অনেকে। এমনকী কেউ কেউ তো গলায় আঙুল দিয়ে ছোঁচাখুঁচিও চালু করে দেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, তাতে কি কোনও লাভ হয়? আজ সেই বিষয়টাই জানব আমরা।
কোথায় কাঁটা বেশি আটকায়?
সাধারণত বাচ্চাদের টনসিল অনেক বড় আকারের হয়। তাই তাদের এই জায়গাতেই কাঁটা আটকায় বেশি। এছাড়া ছোট থেকে বড়, সকলেরই জিভের পিছনে, শ্বাসনালীর মুখে, তালুতে, ফ্যারিংসে ও মাড়িতে কাঁটা আটকাতে পারে। মাথায় রাখতে হবে, ছোট কাঁটা সাধারণত টনসিলে আটকায়। আর বড় কাঁটা খাদ্যনালীতে গিয়েও আটকাতে পারে। আর কাঁটা একবার গলায় বিঁধে গেলেই শুরু হয়ে যায় অস্বস্তি। বারবার ঢোক গিলতে ইচ্ছে করে।
কাঁটা ফুটলে কী করবেন না?
প্রথমেই বলি, কাঁটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে গলায় ফুটে যায় না। বরং সেটা গলার কোনও খাঁজে আটকে থাকে। যার ফলে তা এমনিতেই নেমে যায় জল খেতে খেতে। তাই কাঁটা লাগলে অবশ্যই সেই জায়গায় খোঁচাখুঁচি করবেন না। তাতে সমস্যা বাড়তে পারে। হতে পারে ইনফেকশন।
শুকনো ভাত, রুটি বা কলা খেতে পারেন। তবে কাঁটা যদি বিঁধে থাকে, তাহলে এগুলি দিয়ে তোলা সম্ভব নয়। আর একটা কথা, গলায় আঙুল দিয়ে বমি করার ভুলটাও চলবে না। তাতে বিপদ বাড়বে।
কাঁটা ফুটলে কী করবেন?
কিছু না করাটাই সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ। শুধু বারেবারে জল খেতে থাকুন। বারবার ঢোক গিলে নিন। তাহলেই দেখবেন কাঁটা নিজের থেকেই নেমে যাবে। প্রকৃতি এভাবেই আমাদের বানিয়েছে। বিশেষত, ছোট কাঁটা নিয়ে টেনশন করবেন না। সাধারণত, এগুলি গলায় ফোটে না। গলার খাঁজে পড়ে থাকে। তাই জল খেতে খেতে বা ঢোক গেলার সময় সেটি চলে যায়।
এছাড়া ব্যথা থাকলে খেতে পারেন প্যারাসিটামল। তাতেই কাজ হবে। তবে কাঁটা গলিয়ে দেওয়ার কোনও ওষুধ হয় না। তাই এই ভুল ভাবনায় থাকবেন না।
কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?
যদি এতকিছু করার পরও ব্যথা না কমে, কাঁটা না নেমে যায় বা অস্বস্তি হতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একজন বিশেষজ্ঞ ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে যান। তিনি কাঁটার অবস্থান দেখে তা তুলে দিতে পারবেন। তাঁরা এই কাজে পারদর্শী।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।