পিরিয়ড নিয়ে টিপসপিরিয়ড বা মেনস্ট্রুয়েশন হল মহিলাদের স্বাভাবিক শারীরবৃত্ত প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকেই অনেকে অবহেলা করেন। যার ফলে ফার্টিলিটি কমতে শুরু করে। বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা নিতে পারে পিছু।
তাই পিরিয়ডের সময় কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট গাইনিকোলজিস্ট ও আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ বাণীকুমার মিত্র। এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই মহিলাদের শরীর সুস্থ থাকবে। পাশাপাশি রিপ্রোডাক্টিভ হেলথও থাকবে ঠিকঠাক। এমনকী ইনফেকশনও পিছু নিতে পারবে না।
কত ঘণ্টা অন্তর বদলাবেন স্যানিটারি প্যাড?
ডাঃ মিত্র বলেন, 'পিরিয়ডের সময় আপনাকে নিরাপদ কোনও মেনস্ট্রুয়াল প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে স্যানিটরি প্যাড বা মেনস্ট্রুয়াল কাপস ব্যবহার করুন। আর সেগুলি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর বদলে নিন। তাতেই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা কমবে। পাশাপাশি সুস্থ থাকা সম্ভব হবে।'
জেনিটাল হাইজিন মেনে চলুন
এই সময় মাঝে মধ্যেই নিজের জেনিটাল পরিষ্কার করতে হবে। গোপনাঙ্গ পরিষ্কারের জন্য PH ব্যালেন্সড ক্লিনজার ব্যবহার করুন। তাহলে সেই জায়গাটা পরিষ্কার থাকবে। সেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হবে না। তবে সাবান এবং পারফিউম প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না। তাতে ক্ষতি হতে পারে বলে জানালেন ডাঃ মিত্র।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
অবশ্যই নিজের ডায়েট নিয়ে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে সবুজ শাক খান। পাশাপাশি ডায়েটে রাখুন বিট, খেজুর, বাদাম এবং বীজ। এগুলি থেকে পাবেন আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন বি১২ থেকে শুরু করে একাধিক জরুরি উপাদান। এর মাধ্যমে শরীর রক্ত তৈরি করে ফেলবে। যার ফলে রক্তাল্পতার আশঙ্কা থাকবে না।
সাইকেল মনিটর করুন
আপনাকে নিজের মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল মাথায় রাখতে হবে। দেখুন সেটা নিয়ম মেনে চলছে কি না। এই বিষয়টা মাথায় রাখলেই আপনি নিজের স্বাস্থ্যের হাল বুঝতে পারবেন। একটু এদিক-ওদিক হলেই নিতে পারবেন চিকিৎসকের পরামর্শ।
স্ট্রেস কমানো মাস্ট
মাথায় রাখবেন, স্ট্রেস শরীরের হাল বিগড়ে দিতে পারে। এমনকী হরমোনাল ব্যালেন্স দিতে পারে বিগড়ে। তাই সাবধান হন। চেষ্টা করুন মাথা ঠান্ডা রাখার। এক্ষেত্রে ডিপ ব্রিদিং ও যোগ অভ্যাস করুন। তাতেই স্ট্রেস কমবে বলে জানালেন ডাঃ মিত্র।
পরিশেষে বলি, এখনও অনেকেই পিরিয়ড নিয়ে নানা ছুঁৎমার্গ পুষে রাখেন মনে। আর এটাই বিপদ বাড়ায়। তাই এই ভুল আর নয়। বরং নিয়ম মেনে শরীরের যত্ন নিন। পিরিয়ড অনিয়মিত হলে বা বেশি রক্তপাত হলে নিন চিকিৎসকের পরামর্শ। ব্যাস, তাহলেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।