ধূপকাঠি জ্বালানোর ক্ষতিবাঙালি গৃহস্থ বাড়িতে কিছু থাকুক না থাকুক ঠাকুরের আসন থাকবেই। সেই সঙ্গে প্রদীপ, ধূপকাঠিও মজুত থাকবে। নিত্যদিন ধূপ দেখিয়েই চলে পুজো দেওয়ার কাজ। এর মাধ্যমেই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে অভ্যস্ত আমরা।
যদিও মাথায় রাখতে হবে, বর্তমানে যেই ধরনের ধূপকাঠি বাজারে পাওয়া যায়, তার অধিকাংশতেই থাকে ক্ষতিকর সব রাসায়নিক। যার ফলে এর থেকে যেই ধোঁয়া তৈরি হয়, তা শরীরের ভয়াবহ ক্ষতি করে দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই বিষয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডা: অরূপ হালদার বলেন, 'ধূপকাঠি খুব একটা ভাল জিনিস নয়। এর জন্য শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তবে শুধু ধূপ নয়, এর পাশাপাশি ধুনো, মশা মারার ধূপও খুব ক্ষতিকর।'
তিনি জানান, 'ধূপে থাকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক। তাই এর থেকে বেরনো ধোঁয়া ফুসফুসের বিরাট ক্ষতি করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এর জন্য হতে পারে সিওপিডি। সেই সঙ্গে যাঁদের ইতিমধ্যেই অ্যাজমা রয়েছে, তাঁরা আরও বিপদে পড়তে পারেন। সুতরাং সাবধান হন।'
গবেষণা যা বলছে...
ডা: হালদারের কথায়, 'এই নিয়ে বিস্তর গবেষণাও হয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে একটা ধূপ প্রায় ৪টি সিগারেটের সমান। আর মশার যে ধূপ জ্বালানো হয় ঘরে, তার একটি সমান ১০০টি সিগারেট। তারপরও মানুষ এগুলি ব্যবহার করে যাচ্ছেন। ক্ষতি হচ্ছে ফুসফুসের'
সাবধানে থাকতে হবে
এই বিষয়ে মোটামুটি একই মত বিশিষ্ট চেস্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: অনির্বাণ নিয়োগীর। তাঁর মতে, সাধারণ সুস্থ মানুষের তেমন একটা সমস্যা প্রাথমিকভাবে হয় না। তবে যাঁদের ইতিমধ্যেই অ্যাজমা ও সিওপিডি রয়েছে, তাঁদের বিপদ হতে পারে।
তবে শুধু ধূপ নয়, এই ধরনের সমস্যা থাকলে ধুলো, ধোঁয়া থেকে পোষ্যের লোম, এসব কিছুর থেকেই দূরত্ব বাড়াতে হবে। নইলে বিপদ হতে পারে নিশ্চিত।
তাহলে বিকল্প কী?
এই দুই বিশেষজ্ঞের মতে, ধূপ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা যায়, ততই ভাল। তার বদলে মোমবাতি এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো করুন। তাতে বিপদ হবে না বলে দাবি করলেন তাঁরা। তাই সুস্থ থাকতে এই নিয়ম মেনে চলা হল মাস্ট।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। তবে এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষার উদ্দেশে লেখা হয়েছে। আমাদের তরফে এই তথ্যকে নিশ্চিত বলে জানান হচ্ছে না।