হান্টাভাইরাস (বিস্তারিত জানাচ্ছেন ডা: প্রীতম রায়, WHO NTD কোয়ার্ডিনেটর, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপূর্ব ভারত)
নেদারল্যান্ডসের জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসের দিকেই এখন চোখ রয়েছে গোটা বিশ্বের তাবড় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের। কারণ, এই জাহাজেই ছড়িয়ে পড়েছে হান্টাভাইরাস। এখনও পর্যন্ত ৮ জনের শরীরে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ক্ষেত্রে সংক্রমণ একবারে নিশ্চিত বলে ধরা পড়েছে। ও দিকে ৩ জনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে।
আর এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ভারতে কি এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে? এর জন্য কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে পরিস্থিতি? যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে এই ভাইরাস নিয়ে কোনও এমার্জেন্সির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সব দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তাই আপাতত ভয়ের কিছু নেই।
ইতিমধ্যেই হু অ্যান্ডিস স্ট্রেনের একটি ছোট হান্টাভাইরাস ক্লাস্টারের উপর নজর রাখতে শুরু করেছে। মাথায় রাখতে হবে, এই সংক্রমণ যে কোনও সময় গুরুতর রূপ নিতে পারে। তবে গোটা বিশ্বে এটা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনও কম। কারণ, এই সংক্রমণ প্রধানত ইঁদুর থেকে ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ খুবই বিরল।
এমন পরিস্থিতিতে নজরদারি জোরদার করাই হল প্রধান কাজ। পাশাপাশি রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। এছাড়া ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কোন স্ট্রেন?
ইতিমধ্যেই ভাইরাসের স্ট্রেন শনাক্ত করা হয়েছে। এটি হল অ্যান্ডিস ভাইরাস স্ট্রেন। এটি একমাত্র হান্টাভাইরাস যা সীমিত পরিসরে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। যদিও WHO জানিয়ে দিয়েছে, এই ভাইরাস নিয়ে এখনই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই।
হান্টাভাইরাস কী?
এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস। এই ভাইরাস ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর শরীরে থাকে। সেখান থেকেই মানুষে ছড়ায়।
কীভাবে ছড়ায়?
ইঁদুরের মূত্র, মল বা লালার সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া ইঁদুরের মূত্র, মল বা লালার মধ্যে থাকা ভাইরাস বাতাসে থাকা অবস্থায় কোনও ব্যক্তি শ্বাস নিলেও হতে পারে বিপদ।
মানুষ থেকে মানুষে এই সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল। এটা মূলত অ্যান্ডিস স্ট্রেনের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠতা ও দীর্ঘ সময়ের সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
এই ভাইরাস প্রধানত দু’ধরনের গুরুতর অসুস্থতার কারণ
HCPS (আমেরিকায় বেশি দেখা যায়) গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত রোগ।
HFRS (এশিয়া ও ইউরোপে বেশি দেখা যায়) গুরুতর কিডনি সম্পর্কিত অসুস্থতা।
কী কী লক্ষণ থাকে?
প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল-
পরবর্তী গুরুতর লক্ষণ-
তাই এখন সতর্ক থাকতে হবে। ইঁদুরের থেকে রাখতে হবে দূরত্ব। তাহলেই সুস্থ থাকতে পারবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।