চুল কামিয়ে ফেলা হচ্ছে।-প্রতিনিধিত্বমূলক ছবিঅনেকেই বিশ্বাস করেন, মাথা কামিয়ে ফেললে বা খুব ছোট করে চুল কাটলে নতুন চুল আগের চেয়ে বেশি ঘন, মোটা ও শক্ত হয়ে গজায়। ছোটবেলা থেকেই এই ধারণা আমাদের সমাজে প্রচলিত। কিন্তু এই বিশ্বাসের কি কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর হলো, না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, মাথা কামানো বা চুল ছোট করে কাটা চুলের বৃদ্ধি, ঘনত্ব বা গুণমানের ওপর কোনও প্রভাব ফেলে না। এটি কেবল দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি প্রচলিত ধারণা, যার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই।
তাহলে মাথা কামানোর পর চুল ঘন মনে হয় কেন?
বিশ্বখ্যাত মেয়ো ক্লিনিকের মতে, চুল শেভ করার পর নতুন যে চুল গজাতে শুরু করে, তা অনেকের কাছেই আগের তুলনায় মোটা বা গাঢ় বলে মনে হয়। তবে এর পেছনে কোনও জাদুকরী পরিবর্তন নেই।
রেজার দিয়ে চুল কাটলে চুলের ডগা ভোঁতা বা সমতল হয়ে যায়। অন্যদিকে, স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা লম্বা চুলের ডগা সরু ও নরম থাকে। ফলে নতুন গজানো চুল স্পর্শে একটু খসখসে এবং দেখতে তুলনামূলক মোটা মনে হয়। আসলে চুলের গঠন বদলায় না, শুধু কাটার ধরন বদলে যাওয়ায় এমন অনুভূতি হয়।
চুল আসলে কোথা থেকে গজায়?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক জানাচ্ছে, চুল মাথার ত্বকের উপরিভাগ থেকে নয়, ত্বকের গভীরে থাকা হেয়ার ফলিকল থেকে জন্মায়। শেভ করার সময় শুধু ত্বকের উপরের অংশের চুল কাটা হয়। রেজার কখনও হেয়ার ফলিকল পর্যন্ত পৌঁছায় না। তাই মাথা কামানো চুলের ঘনত্ব, বৃদ্ধির গতি বা নতুন চুলের গুণমান, কোনও কিছুই বদলাতে পারে না।
চুল কতটা ঘন হবে বা কত দ্রুত বাড়বে, তা মূলত নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস, হরমোনের ভারসাম্য, শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক চাপের ওপর।
নতুন চুল বেশি কালো বা ঘন দেখায় কেন?
অনেক সময় নতুন গজানো চুল আগের চেয়ে গাঢ় বা ঘন বলে মনে হয়। এরও একটি সহজ ব্যাখ্যা রয়েছে। অনেক দিন ধরে থাকা চুল সূর্যের আলো, ধুলো, দূষণ এবং বিভিন্ন হেয়ার কেয়ার পণ্যের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে কিছুটা বিবর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু সদ্য গজানো চুল একেবারেই নতুন এবং এখনও এসব বাহ্যিক প্রভাবের মুখোমুখি হয়নি। তাই সেটি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা গাঢ় এবং ঘন বলে মনে হতে পারে।
চুল পড়ার সমাধান কি মাথা কামানো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান কখনওই মাথা কামানো নয়। এতে চুলের বৃদ্ধি বাড়ে না বা নতুন চুলও বেশি ঘন হয় না। বরং অসাবধানভাবে শেভ করলে মাথার ত্বকে কেটে যাওয়া, জ্বালাপোড়া বা ইনগ্রোন হেয়ারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুল ভালো রাখতে কী করবেন?
প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান।
শরীরে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি ও বায়োটিনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
অস্বাভাবিক হারে চুল পড়লে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।