Yoghurt Eating: রাতে দই খাওয়া ঠিক না ভুল? ডাক্তার যা জানালেন

রাতে দই খাওয়া সবার ক্ষেত্রেই যে খারাপ, এমনটা কিন্তু নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা পুরোটাই শরীর, খাদ্যাভ্যাস ও সময়ের উপর নির্ভর করে। তবে ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স, আইবিএস বা অ্যাসিডিটির রোগীদের সতর্ক থাকা উচিত।

Advertisement
Yoghurt Eating: রাতে দই খাওয়া ঠিক না ভুল? ডাক্তার যা জানালেনরাতে দই খাওয়া কি ঠিক?
হাইলাইটস
  • রাতে দই খাওয়া ঠিক না ভুল? এই নিয়ে নানা মুনির নানা মত।
  • দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
  • রাতে দই খাওয়া কি সত্যিই শরীরের ক্ষতি করে?

রাতে দই খাওয়া ঠিক না ভুল? এই নিয়ে নানা মুনির নানা মত। অনেকের মতে, রাতের খাবারের সঙ্গে দই খেলে সর্দি-কাশি বা হজমের সমস্যা হতে পারে। অন্য দিকে, পুষ্টিবিদ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাতে দই খাওয়া কি সত্যিই শরীরের ক্ষতি করে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়ে একক কোনও উত্তর নেই। কারণ রাতে দই খাওয়ার প্রভাব নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস এবং কখন দই খাওয়া হচ্ছে তার উপর।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, এমন ধারণা ঠিক নয় যে রাতে দই খেলেই সকলের সর্দি বা কাশি হবে। প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। অনেকের ক্ষেত্রে রাতে দই খাওয়ার কোনও সমস্যা দেখা যায় না। বরং দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাক্টেরিয়া হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

তবে যাঁদের ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স রয়েছে বা দুধজাত খাবার হজমে সমস্যা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে রাতে দই খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের আরও একাংশের দাবি, সমস্যা অনেক সময় দইয়ের কারণে নয়, বরং দই খাওয়ার সময় এবং পদ্ধতির কারণে হয়। রাতের ভারী খাবারের পর দই খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে হজমের গতি কমে যেতে পারে। এর ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বুকজ্বালা বা পেটে ভারী ভাব অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে খাবার ঠিকমতো হজম না হয়ে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে পাওয়া অতিরিক্ত চিনি মেশানো বা ফ্লেভারযুক্ত দইয়ের পরিবর্তে বাড়িতে পাতা সাধারণ দই অনেক বেশি উপকারী। এতে অপ্রয়োজনীয় চিনি বা অন্যান্য সংযোজক থাকে না, ফলে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

Advertisement

তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। যাঁরা আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে ভুগছেন, যাঁদের দুধজাত খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে অথবা যাঁদের নিয়মিত অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়, তাঁদের রাতে দই খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে দই এড়িয়ে চলাই ভাল। আবার যদি দই খেতেই হয়, তা হলে রাতের খাবার এবং ঘুমের মধ্যে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের বক্তব্য, রাতে দই খাওয়া সকলের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে খেলে অনেকের ক্ষেত্রেই তা উপকারী হতে পারে। তবে নিজের শরীর বুঝে খাদ্যাভ্যাস ঠিক করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। 

POST A COMMENT
Advertisement