ডিম কীভাবে খাবেন?Egg White Vs Yolk Health: রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে, এই খবর শুনলেই অনেকেই প্রথমে ডিমের কুসুম বাদ দেন। দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা প্রচলিত যে, ডিমের হলুদ কুসুমই কোলেস্টেরল বাড়ার অন্যতম কারণ। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়, আবার একেবারে ভুলও নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কুসুম বাদ দিয়ে ডিমের সাদা অংশ খাওয়াকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলা যায় না। বরং এতে উল্টো শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। কার্ডিয়োলজিস্ট অলোক চোপড়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ডিম তখনই উপকারী হয়, যখন তা কুসুম-সহ খাওয়া হয়।
কুসুম বাদ দিলে কি হবে?
ডিমের সাদা অংশে মূলত ইনফ্লেমেটরি প্রোটিন থাকে। শুধুমাত্র সাদা অংশ খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। অলোক চোপড়া বলেন, “ডিমের কুসুমে শুধু কোলেস্টেরল নয়, রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
কোলেস্টেরল মানেই কি ক্ষতিকর?
কোলেস্টেরল নিয়ে বহু ভ্রান্ত ধারণা সমাজে প্রচলিত। বাস্তবে মানবদেহের লিভার থেকেই প্রায় ৮৫ শতাংশ কোলেস্টেরল তৈরি হয়। অর্থাৎ, কোলেস্টেরল পুরোপুরি খাদ্য থেকে আসে—এমন ধারণা ভুল। শরীরের কোষ গঠন, হরমোন উৎপাদন, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে কোলেস্টেরলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ডিমের কুসুম কি হার্টের শত্রু?
চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ডিমের কুসুম খেলে তা হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি করে না। বরং এটি পুষ্টির একটি সমৃদ্ধ উৎস। শুধুমাত্র কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বলে সম্পূর্ণ কুসুম বাদ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। বরং জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রম, এই সব কিছুর সামগ্রিক প্রভাবেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে বা কমে।