এক্সারসাইজ না ডায়েট?(লিখছেন বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা: আশিস মিত্র)
অনেকেই ঝটপট ওজন কমাতে চান। আর এটা ভাল বিষয়। কারণ, ওজন বেশি থাকলে একাধিক অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেশার, কোলেস্টেরল থেকে শুরু করে একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার রয়েছে ঝুঁকি। এমনকী কিছু কিছু ক্যানসারেরও কারণ ওবেসিটি। তাই ঝটপট ওজন কমানো খুবই জরুরি। নইলে বিপদ বাড়বে।
কিন্তু অনেক রোগীই প্রশ্ন করেন যে ডায়েট নাকি এক্সারসাইজ, কোনটা বেশি জরুরি ওজন কমানোর জন্য? আর সেই উত্তরটাই দেব আজ।
কোনটা বেশি জরুরি?
ওজন কমাতে হবে। আর লক্ষ্যপূরণ করতে চাইলে ডায়েট করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত এক্সারসাইজ করাও জরুরি। এই দুইয়ের মাধ্যমেই আপনি ওজন কমিয়ে ফেলতে পারবেন। কোনও একটির সাহায্য নেওয়া ঠিক হবে না। বরং ডায়েট এবং এক্সারসাইজ, দুইয়ের দিকেই নজর দিন। তাহলেই কাজ হবে। দেখবেন দ্রুত মেদ ঝরবে।
তবে এখানে একটা কথা বলে রাখি, ওজন কমাতে চাইলে ডায়েট একটু বেশি জরুরি। এক্সারসাইজ একটু পিছিয়ে থাকবে। তবে আবারও বলব, ঝটপট ওজন কমাতে চাইলে ডায়েট করতে হবে। সেই সঙ্গে রোজ এক্সারসাইজ করা মাস্ট।
এই প্রসঙ্গে বলি, ওজন কমানোর জার্নি শুরু করার আগে একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তিনি বডি ফ্যাট কম্পোজিশন টেস্ট দিতে পারেন। সেই রিপোর্ট দেখে নির্দিষ্ট ডায়েট এবং এক্সারসাইজ দেওয়া হতে পারে।
কেমন ডায়েট হবে?
সবার প্রথমে কী খাবেন না জানুন। ডায়েট থেকে তেল, ঘি, অত্যধিক মশলা, ভাজা খাবার ও মিষ্টি বাদ দিয়ে দিন। এড়িয়ে চলুন মদ। তার বদলে শাক, সবজি খাওয়া বাড়ান। এমনকী ডালিয়া এবং ওটসও ভাল পরিমাণে খেতে হবে। তাতেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন। দ্রুত কমবে ওজন।
এক্সারসাইজও জরুরি
রোজ এক্সারসাইজ করুন। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম হল মাস্ট। যে কোনও ধরনের ব্যায়াম করতে পারেন। তবে সবথেকে ভাল হয়, কার্ডিও করলে। সেক্ষেত্রে হাঁটতে পারেন, দৌড়াতে পারেন, কিংবা কাটতে পারেন সাঁতার। তাতেই ওজন দ্রুত গতিতে কমে যাবে।
প্রয়োজনে লাগবে ওষুধ
অনেক সময় হাজার চেষ্টাতেও ওজন কমতে চায় না। সেক্ষেত্রে ওজন কমানোর জন্য ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই এই ওষুধটা খেতে হবে। নইলে বিপদ বাড়তে পারে। শরীরের বড় ক্ষতি হতে পারে। তবে এটা হল শেষ রাস্তা।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।