Hair Transplant Risks Snd Complications: মাথাভর্তি চুল পেতে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করাবেন? আগে জানুন সাইড এফেক্ট কতটাHair Transplant Risks Snd Complications: আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার সামনের দিকে পাতলা হয়ে যাওয়া চুল দেখে দুশ্চিন্তায় ভোগেন না, এমন মানুষ বর্তমান যুগে বিরল। বংশগত কারণ হোক বা অত্যাধিক মানসিক চাপ, কম বয়সেই ‘টেকো’ হওয়ার ভয়ে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের দিকে। কিন্তু চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে এই অস্ত্রোপচারের ভালো-মন্দ কতটা আমরা জানি? শুধু সৌন্দর্য নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে কাটাছেঁড়া ও দীর্ঘমেয়াদী কিছু ঝুঁকিও। তাই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কী বলছেন, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
অস্ত্রোপচার ও এর খুঁটিনাটি
হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট মূলত একটি কসমেটিক সার্জারি। মাথার পিছন বা পাশের দিকের অবিনশ্বর চুলের গোড়া বা ‘ফলিকল’ তুলে নিয়ে টাক পড়ে যাওয়া অংশে বসিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত 'FUE' এবং 'FUT'— এই দুই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার চলে। স্থানীয় অ্যানাস্থেশিয়া দিয়ে রোগীকে জাগিয়ে রেখেই ৪ থেকে ৮ ঘণ্টার এই ম্যারাথন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে যাদের মাথার পুরো অংশেই চুল নেই বা যাদের শরীরে কেলয়েড স্কার হওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের জন্য এই পদ্ধতি আদর্শ নয়।
Gleb Kosarenko
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ‘শক লস’ আতঙ্ক
অস্ত্রোপচারের পর কপালে বা চোখের চারপাশে ফোলা ভাব হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। সাথে থাকে মাথার চামড়ায় টানটান অনুভূতি ও চুলকানি। তবে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ‘শক লস’। অস্ত্রোপচারের ২ থেকে ৬ সপ্তাহের মাথায় অনেক সময় নতুন বসানো চুলের পাশাপাশি পুরনো চুলও ঝরতে শুরু করে। এটি সাময়িক হলেও অনেক রোগী আতঙ্কে ভাবেন সার্জারি ব্যর্থ হয়েছে। যদিও চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করছেন, কয়েক মাসের মধ্যেই আবার নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
ঝুঁকির কাঁটা কোথায়?
অনভিজ্ঞ হাতে সার্জারি করালে হিতে বিপরীত হতে পারে। ভুল পদ্ধতিতে রক্ত চলাচলে সমস্যা হলে মাথার চামড়ায় পচন বা ‘নেক্রোসিস’ পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ইনফেকশন, বিশ্রী দাগ (Scarring) এবং ভুল অ্যাঙ্গেলে চুল বসানোর ফলে ‘আনন্যাচারাল হেয়ারলাইন’ তৈরির ঝুঁকিও থেকে যায়। অনেক সময় সস্তার ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় টেকনিশিয়ান দিয়েই সার্জারি করানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। অ্যানাস্থেশিয়ার ডোজ ভুল হওয়াও প্রাণঘাতী হতে পারে।
ফলাফলের দীর্ঘ প্রতীক্ষা
চুল বসিয়েই পরদিন থেকে ঝাঁকড়া চুল পাওয়ার আশা করা ভুল। পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। মনে রাখবেন, ট্রান্সপ্লান্ট মানেই ভবিষ্যতের চুল পড়া বন্ধ হওয়া নয়। অনেক ক্ষেত্রে ফল ধরে রাখতে মিনোক্সিডিল বা ফিনাস্টেরাইড জাতীয় ওষুধ দীর্ঘকাল চালিয়ে যেতে হয়। তাই ‘গ্যারান্টিড ফুল হেয়ার’—জাতীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে না পা দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে সাবধান হবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লিনিকে যাওয়ার আগে তার স্টেরিলাইজেশন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকের শংসাপত্র যাচাই করে নেওয়া উচিত। সস্তার প্যাকেজ দেখে প্রলুব্ধ না হয়ে অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের দেওয়া নিয়মাবলি যেমন— কড়া রোদ বাঁচানো, শ্যাম্পুর ব্যবহার এবং সঠিক খাওয়াদাওয়া কঠোরভাবে মেনে চললে জটিলতার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।