হার্ট ভাল রাখার ডায়েটHow To Prevent Heart Attack Naturally: আধুনিক সভ্যতার দৌড়ে আমরা যত এগোচ্ছি, আমাদের শরীর ঠিক ততটাই পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা এখন ঘরে ঘরে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৬-এর এই কর্মব্যস্ত সময়ে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, কেবল দামি ওষুধ নয়, বরং আমাদের রোজকার থালাতেই লুকিয়ে আছে সুস্থ হার্টের চাবিকাঠি। খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে চনমনে রাখতে এখন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বাঙালির হেঁশেলে যদি সামান্য কিছু ভেষজ ও পুষ্টিকর উপাদানের প্রবেশ ঘটে, তবে বিড়লা-রাজের আভিজাত্যের মতোই আপনার শরীরও থাকবে দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, ফ্ল্যাক্স সিডস বা তিসি এবং সামুদ্রিক মাছের ভূমিকা অনবদ্য। এছাড়া খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে রসুন ও দারুচিনির মতো মশলা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। রান্নায় তেলের ব্যবহার কমিয়ে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ ওটস বা ডালিয়াকে গুরুত্ব দিলে ধমনীতে ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। চৈত্র শেষের এই তপ্ত দিনে যখন চারদিকে তেল-মশলাদার খাবারের হাতছানি, তখন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাই হবে প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, হৃদযন্ত্রকে সচল রাখতে শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা যোগব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিয়মিত ঘুম হৃদরোগের অন্যতম কারণ। ২০ Esk৬-এর এই ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে স্মার্টফোনের আসক্তি কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই হবে আগামীর সুস্থ জীবনের গ্যারান্টি। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— প্রতিটি গৃহস্থালি যদি এই সহজ নিয়মগুলি পালন করে, তবে হার্ট অ্যাটাকের মতো মারণ ব্যাধিকে অনায়াসেই দূরে রাখা সম্ভব।