
Skin Cancer Symptom: চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কিন ক্যানসার শুধু মুখ, গলা বা হাতে নয়, শরীরের এমন বহু জায়গায় তৈরি হতে পারে, যেগুলো সাধারণত চোখে পড়ে না। এই লুকোনো জায়গাগুলি আমরা নিয়মিত পরীক্ষা করি না বলে বিপদটা আরও বাড়ে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সচেতনতাই এই রোগের প্রথম প্রতিরক্ষা।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির জায়গাগুলির মধ্যে রয়েছে নখের নীচের অংশ। অনেক সময় নখের তলায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া কালো বা বাদামি দাগকে আমরা আঘাতের দাগ ভাবি। কিন্তু এই ধরনের লাইন বা স্পট যদি না মিলিয়ে যায় এবং বাড়তে থাকে, তা স্কিন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
হাতের তালু ও পায়ের পাতাও ঝুঁকির তালিকায়। সাধারণত সূর্যের আলো এগুলিতে কম পড়ে বলে আমরা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু চিকিৎসকদের দাবি, এই জায়গাগুলোতে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক দাগ, কালচে দাগ বা চিহ্নও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এছাড়া মাথার স্ক্যাল্পও অন্যতম হাই-রিস্ক এলাকা। মাথার চুলের নীচে থাকা ক্ষত, দাগ বা ক্ষুদ্র ক্ষতচিহ্ন অনেক সময় অগোচরে থাকে। টাক বা পাতলা চুলের ক্ষেত্রে সূর্যের আলো সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগায় ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ঠোঁটে স্থায়ী ঘা বা রং পরিবর্তনও সতর্কবার্তা। বিশেষ করে নীচের ঠোঁটে দীর্ঘদিন রোদ লাগলে সেখানে ক্যানসার সেলের বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন ডাক্তাররা। তাই অবিরাম ক্ষত বা দাগকে কখনও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়।
চোখের চারপাশ ও চোখের পাতা। এই অংশেও ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘদিন ধরে থাকা ফোলা ভাব, কালো দাগ বা অস্বাভাবিক স্পট চোখের সমস্যার মতো মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই চোখের চারপাশে পরিবর্তন দেখলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।
পায়ের আঙুলের ফাঁক, ত্বকের ভাঁজ বা কম দেখা যায় এমন গোপন অংশেও স্কিন ক্যানসার তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ফিজিক্যাল চেক-আপ না করলে এই জায়গার ছোট্ট পরিবর্তনও ধরা পড়ে না। ফলে রোগ গুরুতর হলে তবেই বোঝা যায়।
চিকিৎসকদের দাবি, অবহেলাই সবচেয়ে বড় বিপদ। মোল বা তিলের আকার, রং বা গঠন পরিবর্তন হলে বা কোনও ক্ষত দীর্ঘদিন না সারলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরি। নিয়মিত সেলফ-চেক করলে বহু রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে, ফলে চিকিৎসা সহজ হয়।