প্রতীকী ছবি Infertility Risk In 20s: বয়স মাত্র কুড়ি বা তিরিশের কোঠায়, অথচ শরীরে বাসা বাঁধছে মধ্যবয়সের রোগ। বর্তমান প্রজন্মের মহিলাদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে রীতিমতো কপালে ভাঁজ পড়ছে চিকিৎসকদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনশৈলীর অনিয়মই এই বিপদের মূলে। আগে যেখানে মহিলারা তিরিশের শেষের দিকে সন্তানধারণে সমস্যার সম্মুখীন হতেন, এখন সেই ছায়া দেখা দিচ্ছে কুড়ির শেষভাগেই।
চিকিৎসকদের মতে, সমস্যার শুরু হচ্ছে শৈশব থেকেই। পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং পরিবেশ দূষণের জেরে ৮-৯ বছর বয়সেই মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যাচ্ছে। ফলে সময়ের অনেক আগেই কমছে 'ওভরিয়ান রিজার্ভ'। এর সঙ্গে দোসর হয়েছে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। অতিরিক্ত কাজের চাপ আর কর্টিসল হরমোনের বৃদ্ধি মহিলাদের শরীরের অতি সংবেদনশীল 'হিপোথ্যালামিক-পিটুইটারি-ওভরিয়ান অ্যাক্সিস'-এর ছন্দ বিগড়ে দিচ্ছে।
লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের বড় মূল্য দিচ্ছে আজকের প্রজন্ম। দেরি করে ঘুমোনো, মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, শরীরচর্চার অভাব আর জeঙ্ক ফুড, এই সব মিলিয়ে শরীরে থাবা বসাচ্ছে স্থূলতা এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৫ জন মহিলার মধ্যে ১ জন আজ পিসিওএস (PCOS)-এর শিকার। অর্কিড হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ রিচা সিংয়ের মতে, স্ট্রেস এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসই হরমোনের এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। কুড়ির কোঠাতেই অনিয়মিত ঋতুস্রাব এবং প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ডাঃ প্রীতির মতে, এই বিপদগুলি এড়ানো সম্ভব যদি সঠিক সময়ে সচেতন হওয়া যায়। ধূমপান এবং মদ্যপান ত্যাগ করার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম আহারই হতে পারে মুক্তির পথ। পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট করতে পারলে হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সময়মতো শারীরিক পরীক্ষা করালে বড় ধরনের বিপদ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।