জল পানের নিয়ম জানুন।গরম বাড়তেই শরীরে জল কমে যাওয়ার সমস্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল; দিনে ঠিক কতটা জল খাওয়া উচিত? বয়স অনুযায়ী কি আলাদা নিয়ম আছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবার জন্য একই পরিমাণ জল ঠিক নয়। বয়স, শরীরের ওজন এবং দৈনন্দিন কাজের উপর নির্ভর করে জল খাওয়ার পরিমাণ ঠিক করা উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোটদের শরীরে দ্রুত জল কমে যায়। তাই ১ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের দিনে অন্তত ১ থেকে ১.৩ লিটার জল খাওয়ানো দরকার। ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ১.৫ থেকে ১.৭ লিটার করা উচিত। এতে শরীর সুস্থ থাকে এবং ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে শরীরের কাজকর্ম বেশি থাকে। খেলাধুলো, পড়াশোনা; সব মিলিয়ে বেশি এনার্জি খরচ হয়। তাই ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের দিনে গড়ে ২ থেকে ২.৫ লিটার জল খাওয়া দরকার। বিশেষ করে গরমকালে এই পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিত বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে দিনে ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল খাওয়া ভালো। তবে যাঁরা বাইরে কাজ করেন বা বেশি ঘামেন, তাঁদের আরও বেশি জল খেতে হবে। শরীরের চাহিদা বুঝে জল খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই তেষ্টা না পেলেও জল খান না, যা বড় ভুল।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে আবার আলাদা বিষয় আছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেষ্টা পাওয়ার অনুভূতি কমে যায়। ফলে শরীরে জল কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের দিনে অন্তত ২ থেকে ২.৫ লিটার জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একসঙ্গে বেশি জল খাওয়া উচিত নয়। সারাদিনে অল্প অল্প করে বারবার জল খাওয়া ভালো। এতে শরীর ঠিকভাবে জল শোষণ করতে পারে।
শুধু জল নয়, ফল, সবজি থেকেও শরীরে জল যায়। যেমন তরমুজ, শসা, কমলা; এই সব খাবার শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। তাই ডায়েটে এই ধরনের খাবার রাখাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে জল কম আছে। আর যদি হালকা রঙের হয়, তাহলে বুঝবেন শরীরে জলের মাত্রা ঠিক আছে।
সব মিলিয়ে, বয়স অনুযায়ী জল খাওয়ার নিয়ম মানা খুবই জরুরি। এতে শরীর সুস্থ থাকে, রোগের ঝুঁকি কমে এবং গরমে ক্লান্তিও কম লাগে। তাই আজ থেকেই নিজের বয়স অনুযায়ী ঠিক পরিমাণ জল খাওয়ার অভ্যাস করুন।