ডায়াবেটিসে আলু(পরামর্শে বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা: আশিস মিত্র)
ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আর এই রোগ একবার ধরা পড়ার পরই অধিকাংশই মুষড়ে পড়েন। বিশেষত, আলু খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলেই যত মন খারাপের সূত্রপাত।
তাই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই আমায় প্রশ্ন করেন, একবারেই কি আলু খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে? এমন কি কোনও উপায়ই নেই যাতে আলু ডায়েটে রাখা যায়? আর তাঁদের আমি একটাই উত্তর দিই, আলু খেতেই পারেন। তবে সেটা খেতে হবে নিয়ম মেনে। নইলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না।
কেন আলু নিয়ে এত কথা?
আসলে আলু একটি হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত খাবার। এটির জিআই ৬০-এর বেশি। তাই আলু খেলে সুগার লেভেল হুট করে বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে শরীরের একাধিক অঙ্গ। যেমন- কিডনি, লিভার, চোখ ও স্নায়ুর ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। তাই আলু নিয়ে সাবধান হন।
তাহলে আলু খাবেন কীভাবে?
এর একটা সহজ উপায় বলি শুনুন। এক্ষেত্রে অনেক সবজির মধ্যে ছোট কয়েকটা টুকরো আলু খেলে সমস্যা নেই।
আর একান্তই যদি আলুর তরকারি বা আলু ভাতে খেতে হয়, তাহলে সেই দিন অন্য কার্বোহাইড্রেট কম খেতে হবে। যেমন ধরুন কম খেতে হবে রুটি বা ভাত। তাতেই সুস্থ থাকতে পারবেন। কোনও সমস্যা হবে না।
আলু ভাজা নয়
মাথায় রাখবেন, আলু ভাজা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খুবই খারাপ। ডায়াবেটিস থাকলে এটি খাওয়া যাবে না। তার বদলে খেতে পারেন আলু ভাতে। আর আলু ভাতে খাওয়ার একটি নিরাপদ পদ্ধতি রয়েছে। এক্ষেত্রে আলু সেদ্ধ করে রেখে দিন ফ্রিজে। ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর মেখে খান। তাতেই সুগার বাড়ার প্রবণতা কমবে।
আসলে এভাবে ফ্রিজে আলু রেখে দিলে সরল কার্ব রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে পরিণত হয়। যার ফলে সুগার খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে না।
হেঁটে নিন
সুগার কন্ট্রোল রাখার আরও একটা ভাল পদ্ধতি জানাই শুনুন। এক্ষেত্রে আলু খাওয়ার পর হেঁটে নিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটলেই হবে। তাহলেই সুগার বাড়বে না।
রাঙা আলু খান
সাধারণ আলু খাওয়ার বদলে রাঙা আলু খেতে পারেন। এটি স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর। এটি খেলে সুগার বাড়ার ভয়ও নেই। তাই এটিকে ডায়েটে অ্যাড করে নিন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।