ভুঁড়ি কমাতে অনেকেই শেষ মুহূর্তে কঠিন ডায়েট শুরু করেন।How to Lose Belly Fat: দুর্গাপুজো আসতে আর বেশি দেরি নেই। অনেকের নতুন জামা কেনা হয়ে গিয়েছে। পুজোর ঘোরাঘুরির পরিকল্পনাও চলছে। কিন্তু আয়নায় নিজেকে দেখলেই যদি চোখ যায় পেটের মেদের দিকে, তা হলে মন খারাপ হওয়ারই কথা। ভুঁড়ি কমাতে অনেকেই শেষ মুহূর্তে কঠিন ডায়েট শুরু করেন। কেউ দিনের পর দিন না খেয়ে থাকেন। কেউ আবার নানা 'ফ্যাট বার্নার'-এর পিছনে ছোটেন। এতে দ্রুত ওজন কমলেও তা সব সময় স্বাস্থ্যকর নয়। বরং পরে আবার ওজন বেড়ে যেতে পারে।
পেটের মেদ আলাদা করে শুধু একটি জায়গা থেকে কমানো যায় না। শরীরের মোট ফ্যাট কমলে ধীরে ধীরে পেটের মেদও কমে। তার জন্য দরকার খাবারে নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা।
দুর্গাপুজোর আগে কয়েক সপ্তাহে বড় পরিবর্তনের আশা না করে এই ৭টি অভ্যাস মেনে চলুন।
১. চিনি এবং মিষ্টি কমান
চা বা কফিতে বেশি চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং প্যাকেটজাত মিষ্টি পানীয় নিয়মিত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি ঢোকে। পুজোর আগে এগুলি যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন।
মিষ্টি একেবারে বন্ধ করতে না পারলেও পরিমাণ কমান। চিনি ছাড়া চা বা কম চিনি দিয়ে চা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
২. পাতে প্রোটিন বাড়ান
ওজন কমানোর সময়ে প্রোটিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, ডাল, ছোলা, সয়াবিন, মাছ, মুরগি বা দইয়ের মতো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
প্রোটিন পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে বার বার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
৩. ভাত খাবেন, কিন্তু পরিমাণ বুঝে
ভুঁড়ি কমাতে ভাত একেবারে ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কতটা খাচ্ছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
প্লেটে ভাতের পরিমাণ একটু কমিয়ে তার সঙ্গে সবজি এবং প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। একসঙ্গে বেশি ভাত, আলু, ভাজাভুজি এবং মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
৪. প্রতিদিন হাঁটুন
জিমে যাওয়ার সময় না থাকলেও হাঁটা শুরু করুন। প্রতিদিন দ্রুত গতিতে হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
সম্ভব হলে দিনের মধ্যে মোট ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন। একসঙ্গে সময় না পেলে দু’ভাগেও হাঁটতে পারেন।
৫. পেশি বাড়ানোর ব্যায়াম করুন
শুধু হাঁটলেই হবে না। শরীরের পেশি সক্রিয় রাখাও জরুরি। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন স্কোয়াট, পুশ-আপ, লাঞ্জের মতো সহজ strength training করা যেতে পারে। ইউটিউব ঘাঁটলেই শিখে যাবেন। বিশাল কিছু হাতি-ঘোড়া নয়।
তবে একেবারে নতুন হলে ধীরে শুরু করুন। শরীরের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।
৬. ঘুম অবহেলা করবেন না
ওজন কমানোর চেষ্টায় ঘুমের কথাও মনে রাখতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে খিদে এবং খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
তাই প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। রাতে অকারণে দীর্ঘ সময় মোবাইল দেখার অভ্যাসও কমানো ভাল।
৭. পুজোর আগে 'ক্র্যাশ ডায়েট' নয়
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এটি। কয়েক দিনের মধ্যে পেটের মেদ গায়েব করার কোনও ম্যাজিক পদ্ধতি নেই।
না খেয়ে থাকা, শুধু ফল খাওয়া বা অত্যন্ত কম ক্যালোরির ডায়েট দীর্ঘমেয়াদে ভাল পদ্ধতি নয়। এতে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। ওজন কমলেও তার একটা অংশ জল বা পেশি কমার কারণে হতে পারে।
তাই লক্ষ্য রাখুন ধীরে, নিয়ম মেনে ওজন কমানোর দিকে। প্রতিদিনের খাবার, হাঁটা, ব্যায়াম এবং ঘুম; এই চারটি বিষয় ঠিক রাখতে পারলে ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।