রাস্তাঘাটে বেরোলেই ঘাম আর হাঁসফাঁসানি। বৈশাখ মাসেই যা গরম পড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রাস্তাঘাটে বেরোলেই ঘাম আর হাঁসফাঁসানি। চিকিৎসকরা বলছেন, এই প্রবল গরমে সামান্য অসতর্ক হলেই হতে পারে হিটস্ট্রোক বা পেটের গোলমাল। বিশেষ করে যারা রোদে কাজ করেন বা দিনমজুরি করেন, তাদের বিপদ সবচেয়ে বেশি।
কীভাবে এই দাবদাহ থেকে বাঁচবেন? আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং সুস্থ থাকতে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. জলই আসল ওষুধ
গরমে শরীর থেকে প্রচুর জল ঘাম হয়ে বেরিয়ে যায়। এতে শরীর শুকিয়ে যায়, যাকে ডাক্তাররা বলেন 'ডিহাইড্রেশন'। তাই তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল খান। সাথে সামান্য নুন ও চিনি দিয়ে শরবত বা ওআরএস (ORS) খেলে আরও ভালো। এটি আপনার শরীরের শক্তি ধরে রাখবে।
২. কী খাবেন আর কী খাবেন না?
এই সময় বাইরের তেল-ঝাল মশলাযুক্ত খাবার এক্কেবারে এড়িয়ে চলুন। রাস্তার কাটা ফল বা খোলা শরবত খাবেন না, এতে ডায়েরিয়া হওয়ার ভয় থাকে।
পান্তা ভাত: গ্রামের মানুষের প্রিয় পান্তা ভাত এই গরমে অমৃত। এটি শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখে।
টক দই ও ঘোল: দুপুরে খাওয়ার পর এক বাটি টক দই বা ঘোল খেলে পেট ঠান্ডা থাকে।
ফল: শসা, তরমুজ এবং ডাব এই সময়ের সেরা বন্ধু।
৩. রোদে বেরোলে সাবধান
চেষ্টা করবেন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদে না বেরোতে। তবে পেটের তাগিদে যাদের বেরোতেই হয়, তারা অবশ্যই সাথে একটি ছাতা রাখুন। মাথায় একটা ভিজে গামছা বা টুপি পরে থাকলে সরাসরি রোদ লাগে না। ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন, এতে হাওয়া চলাচল ভালো হয় এবং ঘাম কম হয়।
৪. হিটস্ট্রোকের লক্ষণ বুঝবেন কীভাবে?
মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, খুব বেশি মাথা যন্ত্রণা বা শরীর আচমকা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমনটা মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নিন এবং মাথায় জল দিন। অবস্থা খারাপ বুঝলে দেরি না করে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যান।
৫. ঠান্ডা জল কি ক্ষতিকর?
অনেকেই বাইরে থেকে এসেই ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা জল খেয়ে ফেলেন। এটা একদম করবেন না। এতে হঠাৎ করে বুকে সর্দি বসে যেতে পারে বা গলায় ইনফেকশন হতে পারে। কলসি বা কুঁজোর জল খাওয়া এই গরমে সবচেয়ে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।
মনে রাখবেন, শরীর থাকলে তবেই কাজ থাকবে। তাই অকারণে ঝুঁকি না নিয়ে নিজের ও পরিবারের খেয়াল রাখুন। সুস্থ থাকুন, সাবধানে থাকুন।