গরমের বমির দাওয়াই(লিখছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
খুব গরম পড়েছে। সকাল থেকেই হাল খারাপ। দুপুর যত বাড়ছে, অস্বস্তি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এহেন দাবদাহের মধ্যে বিপদে পড়ছে শরীর। একাধিক সমস্যা হুট করে বিপদে ফেলছে।
আর এই গরমে অনেকেই আবার হুট করে বমির সমস্যায় পড়ছেন। তাঁদের বমি হয়েই যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল, এমন পরিস্থিতিতে পড়লে ঠিক কী করবেন? কীভাবে মিলবে মুক্তি? আর সেই উত্তরটাই দেব আজ।
গরমে বমি হচ্ছে কেন?
এর একাধিক কারণ রয়েছে। তবে সবার প্রথমে অত্যধিক গরমের কথা বলতেই হয়। এই গরমে হিট এক্সহউশনের কারণে অনেকেরই বমি শুরু হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে বমির পাশাপাশি মাথা ঘোরাতে পারে। পাশাপাশি দরদর করে হতে পারে ঘাম। তাই রোদে বেরিয়ে এমন সমস্যায় পড়লে সাবধান হন।
এছাড়া গরমের সময় জলে বা খাবারে অনেক জীবাণু ঘুরে বেড়ায়। সেই খাবার বা জল খেলেও শরীরের হাল বিগড়ে যেতে পারে। পেট খারাপ হতে পারে। পাশাপাশি হতে পারে বমি।
কী করতে পারেন?
অত্যধিক গরমের জন্য সমস্যা হলে প্রথমেই সাবধান হতে হবে। এই সময় সবার আগে রোদ থেকে সরে আসতে হবে। একটা ঠান্ডা জায়গায় বসতে হবে। তাহলেই কাজ হবে। তারপর ধীরে ধীরে ওআরএস পান করুন। এই পানীয় খেলেই কিছুটা রেহাই পাবেন। ধীরে ধীরে কমে যাবে বমি বমি ভাব।
আর পেট খারাপ থেকে বমি হলেও প্রথমে ওআরএস খান। এক্ষেত্রে একটা গোটা প্যাকেট ওআরএস এক লিটার জলে গুলে নিন। তারপর ধীরে ধীরে খান।
কোন ওষুধ কার্যকরী?
এই সমস্যায় ওনডেম জাতীয় ওষুধ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি খেলেই টুক করে কমে যেতে পারে বমি।
যদিও অনেক সময় ওনডেম খাওয়ার পরও বমি হয়। তখন ওষুধও বমির সঙ্গে উঠে আসে। এক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে বমি হলে আবার ওষুধটা খেতে হবে। নইলে বমি কমবে না।
তবে ওষুধ খাওয়ার পরও যদি বমি না কমে তাহলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তখন তিনি প্রয়োজনে ইঞ্জেকশন দিতে পারেন। সেটা নিলেই শরীর সুস্থ থাকবে। যদিও ভুল করেও গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ খাবেন না। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
এছাড়া বমির হলে কয়েকটা দিন একটু হালকা খাবার খান। এড়িয়ে যান রিচ খাবার। তাতেই সুস্থ থাকতে পারবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। তবে এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষার উদ্দেশে লেখা হয়েছে। আমাদের তরফে এই তথ্যকে নিশ্চিত বলে জানান হচ্ছে না।