দই খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি শিখুনHung Curd with Fruits: দই এমনিতেই পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু একটু অন্যভাবে খেলেই খাবারের মান আরও বাড়ানো যায়। সাধারণ দইয়ের জল ঝরিয়ে ঘন করে নিন। তার সঙ্গে মিশিয়ে খান ফাইবারসমৃদ্ধ ফল। এতে একসঙ্গে পাওয়া যেতে পারে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম এবং অন্ত্রের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উৎস। সঙ্গে ফলের ফাইবারও যোগ হবে।
জল ঝরানো দইকে অনেকেই ‘হাং কার্ড’ বলেন। আবার ঘন ধরনের দইকে গ্রিক ইয়োগার্টও বলা হয়। বাড়িতে খুব সহজেই এটি তৈরি করা যায়। প্রয়োজন শুধু টাটকা দই, একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড় এবং কয়েক ঘণ্টা সময়।
কীভাবে দইয়ের জল ঝরাবেন?
একটি পরিষ্কার মসলিন বা পাতলা সুতির কাপড় নিন। তার মধ্যে টাটকা দই ঢেলে দিন। কাপড়টি ভাল করে বেঁধে ছাঁকনির উপর রাখুন। নীচে একটি বাটি রাখবেন। এ বার তা সব শুদ্ধ ধরে ফ্রিজে রেখে দিন।
ধীরে ধীরে দই থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাবে। কয়েক ঘণ্টা পর দেখবেন দই অনেকটাই ঘন হয়ে গিয়েছে। আরও ঘন দই চাইলে কিছুটা বেশি সময় জল ঝরাতে পারেন।
এই হাং কার্ড সরাসরি খাওয়া যায়। আবার ফল, বাদাম, বীজ বা সামান্য মশলা দিয়েও খেতে পারেন।
দইয়ে রয়েছে প্রোবায়োটিক
দইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এতে থাকা জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া। নির্দিষ্ট ধরনের জীবন্ত কালচার থাকা দইকে প্রোবায়োটিক খাবারের অংশ হিসাবে ধরা হয়। এই উপকারী জীবাণুগুলি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে সব দইয়ে একই পরিমাণ বা একই ধরনের জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকে না। তাই বাজার থেকে দই কিনলে প্যাকেটের লেবেলে ‘live cultures’ বা জীবন্ত কালচারের উল্লেখ রয়েছে কি না, দেখে নিতে পারেন।
প্রিবায়োটিক জানেন?
শুধু প্রোবায়োটিক খেলেই হবে না। অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবারও প্রয়োজন। এখানেই আসে প্রিবায়োটিকের প্রসঙ্গ।
প্রিবায়োটিক হল এমন কিছু ধরনের খাদ্যতন্তু ও উপাদান, যা অন্ত্রের নির্দিষ্ট উপকারী জীবাণুর জন্য ‘খাবার’ হিসাবে কাজ করতে পারে। বিভিন্ন ফল, সব্জি, গোটা শস্য এবং ডালজাতীয় খাবারে এমন ফাইবার পাওয়া যায়।
তাই ঘন দইয়ের সঙ্গে ফাইবারসমৃদ্ধ ফল খাওয়া যেতে পারে। যেমন আপেল, পেয়ারা, কলা, কমলালেবু, বেরি জাতীয় ফল। ফলের ধরন অনুযায়ী ফাইবারের পরিমাণও আলাদা। তাই একসঙ্গে অনেক ফল খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
দইয়ের সঙ্গে ফল কেন?
এক বাটি ঘন দইয়ের সঙ্গে কুচি করে আপেল, পেয়ারা, বেদানা বা খোসা-সহ শসা মিশিয়ে নিতে পারেন। চাইলে কলা ও কিছু বাদামও যোগ করা যায়। এতে দই থেকে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সঙ্গে ফল থেকে ফাইবার পাওয়া যায়। অর্থাৎ, খাবারে প্রোবায়োটিকের উৎসের সঙ্গে প্রিবায়োটিক ফাইবারের উৎসও যোগ হচ্ছে।