জ্বর, সর্দি, কাশি থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে?(লিখছেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: শিঞ্জিনী ঘোষ)
হুট করে বদলে গিয়েছে আবহাওয়া। তীব্র গরম হয়েছে উধাও। শান্তির ঝড়বৃষ্টি পেয়েছে গোটা বাংলা। যার ফলে এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে তাপমাত্রা। আবহাওয়া মনোরম।
যদিও হঠাৎ এমন হাওয়া বদলে শরীরের হাল বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেকেই ইতিমধ্যে সর্দি, কাশি এবং জ্বরের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এখন প্রশ্ন হল, এই সব সমস্যায় ফাঁদে পড়লে ঠিক কী করবেন? কীভাবে সুস্থ হয়ে উঠবেন? আর সেই বিষয়টা জেনে নিন।
জ্বর হলে কী করবেন?
এই সময় জ্বর আসতেই পারে। সেক্ষেত্রে প্যারাসিটামল হল নিরাপদ ওষুধ। কিন্তু এই ওষুধটিও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়া উচিত।
যদিও এই প্রসঙ্গে বলি, অতিরিক্ত প্যারাসিটামল লিভারের জন্য খারাপ। তাই বেশি সংখ্যায় প্যারাসিটামল খেলে আদতে বিপদ বাড়বে। তাই এক-দুটো প্যারাসিটামল খাওয়ার পরও যদি জ্বর না কমে, তাহলে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনিই আপনাকে সহজ পথ দেখাবেন।
সর্দি, কাশিতে কী করবেন?
এই সমস্যার জন্য প্রাথমিকভাবে কোনও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তার বদলে গার্গল করুন। স্টিম নিন। এই দুই কাজ করলেই সর্দি, কাশির মতো সমস্যা থেকে মিলবে মুক্তি।
কাশির ওষুধ নয়
একটা কথা মাথায় রাখবেন, এই সময় ভুল করেও কাশির ওষুধ খাবেন না। এই ভুলটা করলেই বিপদ বাড়বে। কারণ, কাশির ওষুধ সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটি কফ বের করে। অপরটি কাশি তোলে। একজন চিকিৎসকই রোগীর শরীরের হাল বুঝে সঠিক ওষুধটি বেছে নিতে পারেন। তবে আপনি যদি নিজের বুদ্ধিতে কাফ সিরাপ খান, তাহলে এই কাজটা করতে পারবেন না। তখন আদতে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক নয়
অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধটি প্রাণ বাঁচাতে পারে। নিজের বুদ্ধিতে এই ওষুধটা খেলে আদতে সমস্যা বাড়বে। তাই ভুলেও অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। তাতেই সমস্যার সহজ সমাধান হবে।
আর কী করবেন?
ব্যাস, তাহলেই দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন। তবে জ্বর যদি ২ দিনের বেশি থাকে, জ্বর যদি বাড়তে থাকে, শরীর খুব খারাপ লাগে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।