ডায়েরিয়াগত ৮ বছর ধরে দেশের পরিচ্ছন্নতম শহরের মুকুট ছিল ইন্দোরের মাথায়। আর সেই ইন্দোরেই কি না দূষিত জল খেয়ে ১০ জনের মৃত্যু। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুশোর বেশি। বাড়িতে অসুস্থ ১৪০০ জন বলে খবর। আর এসবের পিছনেই ডায়েরিয়ার হাত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, ডায়েরিয়ার মতো সাধারণ একটি সমস্যা ঠিক কীভাবে এতটা জটিল আকার নিল? আর এই প্রশ্নের উত্তরটা দিলেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ অনির্বাণ দোলুই। তিনি বলেন, 'এমনটা না হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। ভারতেও হয়েছে। আসলে জলে যদি কোনও জীবাণুর ঘাতক স্ট্রেন মিশে যায় তাহলে সেই জল খেলে সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে জীবাণুর স্ট্রেন থেকে শুরু করে, সেটা কতটা পরিমাণে মিশছে, এগুলি খুঁজে দেখা জরুরি। তাহলেই পরিস্থিতি এতটা খারাপ কেন হল, সেটা বোঝা সম্ভব হবে।'
ডায়েরিয়া কি সবক্ষেত্রেই এতটা ঘাতক?
এর উত্তরে ডাঃ দোলুই বলেন, 'না, একবারেই নয়। ডায়েরিয়া সবসময় ঘাতক কিছু নয়। তবে ডায়েরিয়ার কিছু জীবাণুর স্ট্রেন খুব ভয়ঙ্কর। সেগুলি সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ইন্দোরের পরিস্থিতি এখন ভাল করে খতিয়ে দেখতে হবে। কারা কারা ওই জল পান করেছেন, সেটা বোঝা জরুরি। পাশাপাশি কী ধরনের স্ট্রেনের জন্য এত মানুষ মারা গেলেন, সেটাও জানতে হবে।'
কেন এত মৃত্যু?
আসলে ডায়েরিয়ার জন্য শরীরে জলের ঘাটতি হতে পারে। যার ফলে একাধিক অঙ্গ কাজ করতে পারে না। আর এটাকেই বিজ্ঞানের পরিভাষায় শক বলা হয়। এই শক থেকেই ইন্দোরে মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানালেন এই বিশিষ্ট চিকিৎসক।
ডায়েরিয়া কখন বিপজ্জনক?
ডাঃ দোলুই ডায়েরিয়ার ভয়ঙ্কর কিছু লক্ষণ সম্পর্কে বিশদে জানান। আর সেগুলি হল-
১. বারবার টয়লেটে ছুটতে হতে পারে
২. জিভ শুকিয়ে আসতে পারে
৩. খুব জল তেষ্টা পেতে পারে
৪. ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে
৫. প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে
৬. বারবার বমি হতে পারে
৭. পায়খানার সঙ্গে রক্ত বেরতে পারে
তাই এমন লক্ষণ দেখলেই সাবধান হন। চিকিৎসকের নিন পরামর্শ।
কী করবেন?
ডায়ারিয়া শুরু হলেই প্রথমে ORS খেতে বললেন ডাঃ দোলুই। তাতেই শরীরে জল এবং ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য ফিরবে।
তবে এরপরও যদি সমস্যা না কমে তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এমনকী প্রয়োজনে ভর্তি হতে হবে হাসপাতাল। সেক্ষেত্রে স্যালাইনের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকও চালু করতে হবে বলে মনে করছেন ডাঃ দোলুই।
বিদ্র: এই প্রতিবেদটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।