নিপা ও করোনার পার্থক্যবাংলার মানুষের কাছে ভয়ের অপর নাম হয়ে উঠেছে নিপা ভাইরাস। ইতিমধ্যেই রাজ্যের দুই নার্স এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পাশাপাশি আরও এক নার্সকে বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়েছে নিপা সন্দেহে। ও দিকে ১২০ জনের মতো মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলেই খবর। সেই কারণেই স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে সকলকে সতর্ক হতে বলা হয়েছে।
আর এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে পুরনো করোনা স্মৃতি চাগান দিয়ে উঠছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, এই ভাইরাস কি করোনার মতোই ভয়ঙ্কর? করোনার সঙ্গে নিপার কোনও মিল কি রয়েছে? আর সেই বিষয়টা সম্পর্কে বিশদে জানতেই আমরা যোগাযোগ করেছিলাম কৃষ্ণনগর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল ও বিশিষ্ট প্যাথোলজিস্ট ডাঃ প্রণবকুমার ভট্টাচার্য।
একই গোত্রের ভাইরাস
প্রণববাবু জানালেন, করোনার মতোই নিপাও একটি RNA ভাইরাস। আর সবথেকে বড় কথা এই দুই ভাইরাস একই পরিবারের।
ছড়িয়ে পড়ার পদ্ধতিতে রয়েছে তফাত
করোনার সঙ্গে নিপার যেমন মিল রয়েছে, তেমনই পার্থক্যও রয়েছে বেশ কিছু। আর সেই বিষয়টাও জানিয়েছেন ডাঃ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'করোনা আক্রান্ত মানুষের হাঁচি, কাশি থেকে বেশি ছড়িয়ে পড়ত। তবে নিপা সাধারণত বাদুড়ের মল, মুত্র বা দেহরস থেকে ছড়ায়। এছাড়া বাদুড়ে কামড়ানো ফল বা খেজুরের রস খেলেও এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া শূকরের মাংস খেলে বা এর সংস্পর্শে এলেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আর মানুষ থেকে মানুষে লালা এবং অন্যান্য দেহ রসের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নিপা।'
তাই তাঁর দাবি, করোনা যতটা সংক্রামক ছিল, নিপা ঠিক ততটা নয়।
মৃত্যুহার বেশি
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মৃত্যুহার ছিল মাত্র ২ শতাংশের মতো। সেখানে নিপায় মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশের মতো। আর এতটা মৃত্যুহার হওয়ার জন্যই এই ভাইরাস কম ছড়াবে বলে দাবি করেন ডাঃ ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, 'করোনার মৃত্যুহার কম ছিল। তাই এই ভাইরাস খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ত। তবে নিপায় মৃত্যুহার বেশি। আর মানুষ মারা গেলে তার সঙ্গে ভাইরাসেরও মৃত্যু হয়। তাই নিপা বেশি ছড়াতে পারবে না।'
খুব বাড়াবাড়ি হবে না
করোনায় যেভাবে কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন, এবার তেমন একটা হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই জানালেন এই বিশিষ্ট চিকিৎসক।
ওষুধ ও টিকা কতদূর?
নিপার ক্ষেত্রে কার্যকরী তেমন কোনও ওষুধ নেই। শুধুমাত্র লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা করা হয় বলে জানালেন এই চিকিৎসক।
আর টিকার বিষয়ে তাঁর দাবি, ইউকে-তে এই ভাইরাসের টিকা বানানোর কাজ চলছে। তবে সেটির ট্রায়াল এখনও হয়নি। তাই খুব দ্রুত যে এই ভ্যাকসিন আসছে না, সেটা একবারে পরিষ্কার।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।