নিপার ওষুধপশ্চিমবঙ্গে ভয় ধরাচ্ছে নিপা ভাইরাস। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন দুই নার্স। পাশাপাশি বর্ধমান মেডিক্যালের একজন হাইজ স্টাফের শরীরেও নিপার লক্ষণ রয়েছে। এঁদের চিকিৎসা চলছে।
আর নিপার খবর সামনে আসার পরই অনেকের মনে প্রশ্ন ঘুরছে যে, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনও ওষুধ কি রয়েছে? আর সেই উত্তরটা জানতেই আমরা যোগাযোগ করেছিলাম কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের MSVP এবং ফার্মাকোলজির অধ্যাপক ডাঃ অঞ্জন অধিকারীর সঙ্গে।
এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনও ওষুধ কি রয়েছে?
এই বিষয়ে ডাঃ অধিকারী বলেন, 'না, নিপার জন্য নির্দিষ্ট করে কোনও ওষুধ নেই।'
তাহলে চিকিৎসা হবে কীভাবে? তার উত্তরে তিনি বলেন, 'একাধিক অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ রয়েছে যেগুলি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে। সেগুলি দিয়েই চিকিৎসা করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক। এভাবেই চিকিৎসা হবে। নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই।'
বিষয়টা যদি একটু বুঝিয়ে বলেন...
এই প্রসঙ্গে অঞ্জন অধিকারী বলেন, 'এই ভাইরাস ফুসফুসে আঘাত হানতে পারে ও মস্তিষ্কে আঘাত হানতে পারে। এবার চেষ্টা করতে হবে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে যেই সমস্যাগুলি হয়েছে, সেগুলির চিকিৎসা করা। অর্থাৎ ফুসফুস বা মস্তিষ্কে যদি প্রদাহ হয়, সেটা কমানোর চেষ্টা করতে হবে এই সব ওষুধের মাধ্যমে। আর শুধু প্রদাহ নয়, যেমন যেমন সমস্যা হবে, তেমন ভাবেই চিকিৎসা করতে হবে।'
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, নিপায় আক্রান্ত রোগীর শরীর দ্রুত খারাপ দিকে যায়। তাই রোগীকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা করার প্রয়োজন পড়তে পারে। এমনকী দিতে হতে পারে ভেন্টিলেশনও। সেখানে শুধু ওষুধ নয়, অক্সিজেন থেকে শুরু করে আরও নানা ধরনের সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। এটাই হল চিকিৎসার পদ্ধতি।
স্বাস্থ্য দফতর যা জানাল...
ইতিমধ্যেই কোভিড নিয়ে একটা গাইডলাইন দিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। সেখানে রিবাভিরিন অ্যান্টিভাইরাল ওষুধটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেস অনুযায়ী এবং হাই রিস্ক রোগীকে গাইডলাইন অনুযায়ী এই ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রোটোকল মেনে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপি ব্যবহার করারও দেওয়া হয়েছে পরামর্শ। তবে এই চিকিৎসা আপৎকালীন ক্ষেত্রেই ব্যবহার করার দেওয়া হয়েছে পরামর্শ।
রোগ প্রতিরোধে জোর দিতে হবে
বিশেষজ্ঞদের একটাই কথা, এই রোগ প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। যেমন ধরুন-
১. এই রোগ বাদুড় থেকে ছড়ায়, তাই চেষ্টা করুন এর থেকে দূরে থাকার।
২. ফলে কামড় বসানোর দাগ থাকলে খাওয়া যাবে না।
৩. খেজুরের রসে বাদুড়ের মল,মুত্র থাকতে পারে। তাই এই রস নয়। তবে গুড় করে খেতে পারেন।
৪. শূকরের মাংস থেকে দূরে থাকুন। এই প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে যান।
৫. মাস্ক পরুন।
ব্যাস, এই কয়েকটা নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।