নিপা ভাইরাস গাইডলাইনNipah Virus সংক্রমণে আতঙ্ক বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দুই নার্স। তাঁদের একজন কোমায় চলে গিয়েছেন। ১০০-র বেশি ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে নিপা নিয়ে গাইডলাইন প্রকাশ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
নিপা আক্রান্তের দেখভাল করা ব্যক্তি সহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে রাজ্যের তরফে। ওই গাইডলাইনে প্রথমেই জানানো হয়েছে, রোগীর রক্ত, ফ্লুইড, লালারস, হাঁচি-কাশির ড্রপলেট ইত্যাদির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। নিপা ভাইরাস আক্রান্ত বা উপসর্গ রয়েছে, এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে ২১ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে এবং প্রত্যেকদিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফোন করে খোঁজখবর নেবে স্বাস্থ্য ভবন।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের গাইলাইনে ঠিক কী কী বলা হয়েছে?
১. হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন ব্যক্তিকে দিনে ২ বার চিকিৎসা করাতে হবে। উপসর্গ ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। রাখতে হবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে।
২. নিপায় আক্রান্ত অথবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর জামা-কাপড়ের সংস্পর্শে এলে অথবা রোগীর সংস্পর্শে এলে ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রত্যেকদিন তাঁকে ফোন করে খোঁজ নেবে স্বাস্থ্য ভবন। যদি তাঁরও উপসর্গ দেখা যায়, হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
৩. নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত অথবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে। ভাইরাস রুখতে সব রকমের ব্যবস্থা নিয়ে,সুরক্ষার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
৪. RTPCR টেস্টের জন্য তাদের নমুনা দ্রুত পাঠাতে হবে। একদিনের মধ্যে অন্তত দু'বার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে তবেই ওষুধ বন্ধ হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের কেউ যদি এই ধরনের রোগীর সংস্পর্শে আসেন, কিন্তু তাঁর উপসর্গ না থাকলে তিনি মাস্ক পরে, PPE কিট পরে কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
৫. স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নিপার সংক্রমণ ঠেকাতে ২ সপ্তাহ একটি বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খেতে বলা হয়েছে। নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর দায়িত্ব নিতে হবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের।
৬. নিপা ভাইরাস পজিটিভি এলে ৫ দিন অন্তর টেস্ট করতে হবে। লালারস, ইউরিন এবং রক্ত এই ৩টি নমুনার আলাদা আলাদা রিপোর্ট যদি একদিনের মধ্যে দু'বার নেগেটিভ আসে, তবেই রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছা়ড়া হবে।
৭. হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ৯০ দিন পর্যন্ত রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।