উকুনের জন্য গেল প্রাণউকুনের জন্য এক কিশোরীর মৃত্যু। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, মাথার উকুন থেকে সেপ্টিসেমিয়া। আর সেই কারণেই প্রাণ হারাল ওড়িশার পুরীর ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। মৃত ছাত্রীর নাম লক্ষ্মীপ্রিয়া।
পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কয়েক মাস উকুনের জ্বালা সইতে হচ্ছিল বছর বারোর লক্ষ্মীপ্রিয়াকে। উকুন থেকে নিস্তার পেতে ঘরোয়া টোটকা, তেল এবং শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছুতেই সমস্যা মেটেনি। আর কিশোরীর অভিভাবকেরাও এই বিষয়টার দিকে তেমন একটা আমল দেয়নি। তবে এরপরই ঘটে যায় বিপত্তি। সে সম্প্রতি রক্তবমি শুরু করে। তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু লাভ হয়নি। প্রাণ হারায় এই কিশোরী।
এই প্রসঙ্গে তার মা জানান, উকুনের জন্য অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল লক্ষ্মীপ্রিয়া। সেই কারণে মাথায় স্কার্ফ বেঁধে রাখত সে। বেশ কিছু দিন ধরে নাকি মাথা থেকে বেরচ্ছিল দুর্গন্ধও। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাড়া হতে বলা হয় লক্ষ্মীপ্রিয়াকে। কিন্তু সে কিছুতেই রাজি হয়নি। এরই মাঝে ঘটে যায় বিপত্তি।
কেন মারা গেল লক্ষ্মীপ্রিয়া?
ওই হাসপাতালের তরফে জানান হয়েছে, উকুনের জন্য স্ক্যাল্পে ইনফেকশন হয়ে যায়। সেটার দিকে নজর রাখা হয়নি। ফলে তার থেকে সেপটিসেমিয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে কলকাতার নামী মেডিসিনের চিকিৎসক ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল বলেন, 'এটা খুবই বিরল ঘটনা। উকুন থেকে সেপটিসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা খুব কম। তবে এই কিশোরীর সঙ্গে এমনটা হয়েছে। উকুন থেকে ইনফেকশন হয়ে সেপটিসেমিয়া রক্তে ছড়িয়ে যায়। যার ফলে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে ওই কিশোরী।'
আসলে উকুন হলে মাথার ত্বক খুব চুলকাতে থাকে। আর চুলকানির সময় মাথার ত্বক কেটে যেতে পারে। সেখানে ইনফেকশন হতে পারে। আর সেই ইনফেকশন কিছু ক্ষেত্রে সেপটিসেমিয়ার দিকে মোড় নেয়।
কেন এত বাড়়াবাড়ি?
ডাঃ পাল জানালেন, একদিনে এতটা বাড়াবাড়ি হয়নি। ধীরে ধীরে হয়েছে। ঠিক সময় চিকিৎসা হলে এতটা বাড়াবাড়ি হতো না। প্রথমে সেই দিকে নজর না দিয়ে ঘরোয়া টোটকা, তেল ও শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়েছে। তার থেকেই সেপটিসেমিয়া হয়। তারপর মৃত্যু।
সেপটিসেমিয়া কী?
শরীরের যে কোনও ইনফেকশন রক্তে পৌঁছে গেলেই সেপটিসেমিয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে রক্তে পৌঁছে যায় ইনফেকশন। সেখান থেকে একাধিক অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। তারপর মাল্টি অর্গান ফেলিয়র হয়ে মৃত্যু হতে পারে বলে জানালেন ডাঃ পাল।
কোন কোন লক্ষণে সাবধান?
ছোটদের শরীরে এই সব উপসর্গ দেখা দিলে সাবধান হন
কী করতে হবে?
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বাচ্চাদের শরীরের দিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষত, মাথা পরিষ্কার রাখা জরুরি। মাঝে মধ্যেই শ্যাম্পু করতে হবে মাথায়। পরিবারের সবার জন্য আলাদা চিরুনি ব্যবহার করুন। আর যদি মাথায় ইনফেকশন হয়, তাহলে ফেলে রাখবেন না। বরং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনিই সমস্যার সমাধান দেবেন।