বিশ্ব অ্যাজমা দিবস ২০২৬(লিখছেন বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডা: রাজা ধর)
আজ বিশ্ব অ্যাজমা দিবস। এই দিনে এটা স্বীকার করে নিতেই হয় যে অ্যাজমা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। আর এই রোগের কারণগুলি শুধু বায়ুদূষণ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং ফসল পোড়ানোর ধোঁয়ার মধ্যেই আটকে নেই। বরং মানসিক চাপও এই অসুখের অন্যতম ট্রিগার। কিন্তু দুঃখের হলেও এই বিষয়টা একবারেই গুরুত্ব পায় না। সেটাই বড় সমস্যার বিষয়।
বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞান এটা স্বীকার করে নিয়েছে যে মানসিক চাপ অ্যাজমা অ্যাটাকের একটা বড় ট্রিগার। স্ট্রেস অ্যাজমার পরিবেশগত কারণগুলির প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে বেড়ে যায় বিপদ।
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, যখন মানব দেহ মানসিক চাপে থাকে, তখন সেই চাপের প্রতিক্রিয়ায় যে হরমোন নিঃসৃত হয়, তা সরাসরি শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই অবস্থায় পরিবেশে উপস্থিত ট্রিগারগুলোর প্রতি শরীরের ইমিউন প্রতিক্রিয়াকে আরও তীব্র করে। যার ফলে শুরু হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জীবনের বড় কোনও মানসিক ধাক্কা, যেমন কাছের কোনও মানুষের মৃত্যু অ্যাজমা অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই বিপদের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেশি।
বিষয়টা আরও সহজে বুঝিয়ে বলি। ধরুন একই মাত্রার দূষণের সংস্পর্শে এসেছেন দুই জন ব্যক্তি। এমন পরিস্থিতিতে দূষণের জন্য একজন মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। অপরদিকে ফুরফুরে মেজাজে থাকা মানুষের সমস্যার আশঙ্কা কম। অর্থাৎ ফুসফুস তখন একসঙ্গে দু'টি চাপের মুখে পড়ে। দূষণ এবং মানসিক চাপ একসঙ্গে সামলাতে হয়।
মাথায় রাখতে হবে, কলকাতার মতো শহরে, যেখানে শিল্পাঞ্চল, প্রচুর যানবাহন এবং জনঘনত্বের কারণে বায়ুর গুণমান আগে থেকেই খারাপ, সেখানে এমনিতেই একটু সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি অ্যাজমাকে কন্ট্রোলে রাখতে শুধু পরিবেশ নয়, মানসিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
কী করতে হবে?
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট করুন। দিনে পর্যাপ্ত সময় ঘুমোন। পাশাপাশি যতটা সম্ভব দূষণ এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নিজের ইনহেলার নিন। ওটা নিয়ে যেতে হবে। এটাই আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে। তাই বিশ্ব ফুসফুস দিবসে এই নিয়মগুলি অবশ্যই মেনে চলুন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।