বিশ্ব পার্কিনসনস ডিজিজ(লিখছেন বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডা: দীপ দাস)
পার্কিনসনস ডিজিজ হল স্নায়ুর রোগ। এই অসুখটি ধীরে ধীরে বাড়ে। এই অসুখে মস্তিষ্কে ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষের ক্ষয় হয়। যার ফলে নানা উপসর্গ ফুটে ওঠে শরীরে।
এই অসুখটি সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে এটি শুধুমাত্র বেশি বয়সের অসুখ নয়। গত কয়েক বছরে কম বয়সীদের মধ্যেও এই অসুখ দেখা গিয়েছে। এমনকী ৩০ বা ৪০ বছরের মানুষদের মধ্যেও এর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এটাকে বলা হয় ‘আর্লি-অনসেট পারকিনসনস’। তাই কম বয়স থেকেই এই অসুখ নিয়ে সাবধান হতে হবে। আর বিশ্ব পার্কিনসনস দিবসে এই রোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল।
এর লক্ষণ কী?
এই অসুখের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় ধরা পড়ে না। সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে এই ধরনের কিছু লক্ষণ থাকতে পারে-
তাই এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তিনি যদি কিছু টেস্টে দেন, করিয়ে নিন। তাহলে রোগটা ধরা পড়ে যাবে। তারপর শুরু করা যাবে চিকিৎসা।
এই রোগের চিকিৎসা কি রয়েছে?
প্রথমেই বলে রাখি, এই রোগ থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা যায় না। সারাজীবন এই রোগকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে হয়। যদিও ভাল খবর হল, এই অসুখকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সেই রকম কার্যকরী চিকিৎসা রয়েছে।
এক্ষেত্রে ডোপামিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, এমন ওষুধই মূল চিকিৎসা। এই চিকিৎসায় রোগীর সমস্যা অনেকটাই কমাতে পারে। এর পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্পিচ থেরাপি করানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। তাতে চলাফেরা ঠিকঠাক হয়। পাশাপাশি রোগী নিজের কাজ নিজেই করতে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাতে অনেকটাই ভাল ফল মেলে।
তাই পরিশেষে বলি, এই রোগ নিয়ে ভয় পাবেন না। বরং সাবধান হতে হবে। নির্দিষ্ট সময় করতে হবে চিকিৎসা। তাহলেই দেখবেন অনায়াসে অসুখটাকে সঙ্গে নিয়ে সুস্থ থাকা যাবে।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।