শরীরচর্চার খারাপ ফলসুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরচর্চার বিকল্প। শরীর ফিট তো থাকেই, রোগবালাইও থাকে দূরে। ফিটনেট খালি ট্রেন্ড নয় বরং জীবনযাত্রার অংশ হয়ে উঠছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরান। কিন্তু, আপনি কি জানেন অতিরিক্ত ওয়ার্কআউট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? অতিরিক্ত ব্যায়াম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকরা বলছেন,'প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শরীরকে বেশি খাটালে উল্টো ফল হয়। ওয়ার্কআউটের জন্য প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা উচিত'। ক'ঘণ্টা ওয়ার্কআউট সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকার?
বিশ্রাম কেন দরকার?
বিশ্রাম মানে আলসেমি নয়, এটা ফিটনেসেরই অংশ। বিশ্রামের সময় শরীর পেশী মেরামত করে। বিশ্রাম দরকারি হরমোনের নিঃসরণে সহায়তা করে। যাতে বলিষ্ঠ হয় পেশী। বিশ্রাম কম করলে শরীর আর বাড়ে না। বেড়ে যায় চোট-আঘাতের ঝুঁকি। সেই সঙ্গে বিশ্রাম শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। শরীরচর্চার সময় স্ট্যামিনা নষ্ট হয় না। বরং আগের চেয়েও বেশি উদ্যমে কসরত করতে পারবেন।
শরীরের বিশ্রাম প্রয়োজন তা কীভাবে বুঝবেন?
কাল্ট ফিটের ফিটনেস বিশেষজ্ঞ শ্রীধর বলেন,'দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, আলস্য, ব্যায়াম করার ইচ্ছা না থাকা- এগুলো সবই দীর্ঘ সময় ধরে শরীরচর্চার লক্ষণ। যখন প্রতিদিনের শরীরচর্চার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, তখনই বুঝে নিতে হবে কোনও কিছু একটা ঠিক হচ্ছে না। এই লক্ষণগুলি উপেক্ষা করে অনেকেই মনের জোরে অতিরিক্ত ব্যায়াম চালিয়ে যান। এতে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি'। এছাড়া অস্থিরভাব, ঘুম না আসা, দ্রুত ক্লান্তির মতো সমস্যা হলেও বুঝতে হবে অতিরিক্ত কসরতের বোঝা সইতে পারছে না শরীর।
কতটা বিশ্রাম নেওয়া উচিত?
শরীরচর্চার পর অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার বিশ্রাম প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্রামের সময় বয়স এবং ওয়ার্কআউটের উপর নির্ভর করে। ব্যায়ামের মাঝে শরীরকে বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোনও চোট-আঘাতের সম্ভাবনা কমে। পেশীও পোক্ত হবে।
অতিরিক্ত শরীরচর্চা করলে হৃদরোগও হতে পারে। শরীরের ক্ষমতার বাইরে কাজ করলে হৃদপিণ্ডের উপর চাপ পড়ে, যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।