পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে ভাইরাল ফিভারবর্ষার ইনিংস সবে শুরু হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের বৃষ্টি দেখেছে পশ্চিমবঙ্গ। তার মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে জ্বরের প্রকোপ। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সর্দি, কাশিও সঙ্গী হচ্ছে। আর কলকাতার চিকিৎসকদের একাংশ এবং হাসপাতালগুলিতে খোঁজ নিলে জানা যাচ্ছে, জ্বরের এই বাড়বাড়ন্তের নেপথ্যে মূলত ভাইরাল ফিভারই রয়েছে। মশাবাহিত ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া এখনও খুব একটা সক্রিয় হয়ে ওঠেনি।
এখন প্রশ্ন হল, বর্ষার এই শুরুর সময়ই কেন বাড়তে শুরু করেছে ভাইরাল ফিভার? এটা কি স্বাভাবিক? এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: রজত বাসু বলেন, 'সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে মোটামুটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের সব জেলাতেই আর্দ্র আবহাওয়া। বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আর এই ধরনের আবহাওয়া সব ধরনের ভাইরাসের জন্যই উপযোগী। এই ধরনের আবহাওয়ায় আর্দ্র পরিবেশে ভাইরাস সহজেই বংশবিস্তার করতে পারে।'
তিনি জানালেন, এই সময় ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপট মূলত বাড়ে। এই ভাইরাসই মূলত ভাইরাল ফিভারের জন্য দায়ী। এছাড়া কিছু কিছু অ্যাডিনোভাইরাস এই সময় বাচ্চাদের খুব আক্রান্ত করে।
এই বিষয়ে একই মত দিলেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: রুদ্রজিৎ পাল। তিনি বলেন, 'এখন থেকেই অনেক ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত রোগী আসছে। জ্বর থাকছে। সর্দি, কাশি হচ্ছে। কারও কারও গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথাও হচ্ছে। মূলত ভাইরাল ফিভারের ক্লাসিক্যাল লক্ষণ নিয়েই আসছে। এখনও তেমন একটা ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া পাইনি।'
যদিও এবারের এই সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কোনও মিউটেশন রয়েছে কি না, সেই বিষয়টা নিয়ে এখনও গবেষণা দরকার বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
জ্বর কমলেও থাকছে সর্দি, কাশি
ডা: রুদ্রজিৎ পাল জানালেন, সাধারণত ভাইরাল ফিভার নিজের থেকেই কমে যায়। ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই বিদায় নেয় জ্বর। কিন্তু সর্দি, কাশি কমতে কমতে অনেক ক্ষেত্রেই ১০ দিন বা ২ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
কী করবেন?
এই সময় জ্বর হলে প্যারাসিটামল সেফ বলে জানালেন এই দুই চিকিৎসক। পাশাপাশি তাঁরা বেশি পরিমাণে জল পান করার পরামর্শ দিলেন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পক্ষে করলেন সওয়াল। এছাড়া গলা ব্যথা, সর্দি, কাশির ক্ষেত্রে গার্গল করতে বললেন তাঁরা। এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই ভাইরাল ফিভার নিজের থেকেই সেরে যাবে বলে জানালেন তাঁরা।
গর্ভাবস্থায় সাবধান
ভাইরাল ফিভারের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে মুখ খুললেন বিশিষ্ট গাইনিকোলজিস্ট ডা: জয়তী মণ্ডল। তিনি জানালেন, এই সময় বেশ কিছু গর্ভবতী নারী তাঁর কাছে জ্বর নিয়ে আসছেন। আর অধিকাংশেরই ভাইরাল ফিভার। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের প্রথমত প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। তবে যদি সমস্যা বাড়াবাড়ি দিকে যায়, কষ্ট বাড়ে, জ্বর না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বললেন ডা: মণ্ডল।
তিনি সতর্ক করে বললেন, 'এই সময় কোনও শারীরিক সমস্যা ফেলে রাখা যাবে না। নইলে গর্ভের সন্তান বিপদে পড়তে পারে।'
কখন জ্বর নিয়ে সাবধান?
এই সব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। নইলে বিপদ বাড়বে বই কমবে না।
রোগ প্রতিরোধ করুন
ডা: বাসু ভাইরাল ফিভার প্রতিরোধের সহজ পথ দেখালেন-
১. নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন
২. মাস্ক পরুন
৩. পরিমিত জল খান
৪. মরসুমি ফল ও শাক-সবজি খান
৫. নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন
ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া নিয়ে সাবধান
এই সব বর্ষার শুরু। এখনও তেমন একটা জল জমেনি। তাই মশাবাহিত রোগের প্রকোপ এখনও কিছুটা কম রয়েছে। যদিও পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে খারাপ দিকে যেতে পারে। তাই বাড়ির আশপাশে জল জমতে দেবেন না। এই কাজটা করলেই মশা বাড়বে না। যার ফলে ডেঙ্গি ও ম্যালেয়িরা থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে রাখতে পারবেন।
বিদ্র: এটা একটি সাধারণ প্রতিবেদন। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।