
ওজন কমানো বা ফিট থাকতে চাইলে সাধারণত শোনা যায়-প্রতিদিন ১০,০০০ কদম হাঁটতে হবে, ৩০ মিনিট কার্ডিও করতে হবে বা অন্তত এক ঘণ্টা জিমে কাটাতে হবে। কিন্তু যদি বলা হয়, ঘাম ঝরানো কঠিন ব্যায়াম ছাড়াই দিনে মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই শরীর ভালো রাখা সম্ভব? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সেটাই সম্ভব। এই পদ্ধতির নাম 'ব্যায়াম স্ন্যাকস'।
ব্যায়াম স্ন্যাকস কী?
ব্যায়াম স্ন্যাকস হল খুব অল্প সময়ের, কিন্তু তুলনামূলকভাবে জোরালো শারীরিক ব্যায়াম, যা এক মিনিট বা তারও কম সময় ধরে করা হয়। সারা দিনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এই ব্যায়ামগুলো করা হয়।
যেমন-
দিনে ৩-৪ বার সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত ওঠানামা
কাজের ফাঁকে কয়েকটি স্কোয়াট বা লাঞ্জ
টিভি দেখার সময় ৩০-৪৫ সেকেন্ড জাম্পিং জ্যাক
এগুলি একটানা নয়, বরং ঘুম থেকে ওঠা থেকে ঘুমাতে যাওয়ার মধ্যে ১-৪ ঘণ্টা ব্যবধানে করা যায়। ফলে আলাদা করে সময় বের করার চাপও থাকে না।
HIIT-এর সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
HIIT বা হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিংয়ে সাধারণত ২০-৩০ মিনিট একটানা ব্যায়াম করতে হয়। কিন্তু ব্যায়াম স্ন্যাকস হল ঠিক উল্টো-সারা দিনে ছোট ছোট 'ব্যায়ামের কামড়', যেন একবারে বড় খাবার না খেয়ে বারবার হালকা খাবার খাওয়া।
গবেষণা কী বলছে?
ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আগে খুব একটা শরীরচর্চা করতেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যায়াম স্ন্যাকস কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অর্থাৎ হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুস আরও ভালোভাবে কাজ করতে শিখেছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, প্রায় ৮৩ শতাংশ মানুষ তিন মাস ধরে এই রুটিন মেনে চলতে পেরেছেন, যা সাধারণ জিম বা কঠোর ডায়েটের ক্ষেত্রে বিরল।
কেন এই পদ্ধতি কাজ করে?
বিশ্বজুড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পর্যাপ্ত শরীরচর্চা করেন না। প্রধান কারণ, সময়ের অভাব ও অনুপ্রেরণার ঘাটতি। ব্যায়াম স্ন্যাকস এই দু’টি সমস্যারই সহজ সমাধান। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে তিনবার দ্রুত তিনতলা সিঁড়ি ওঠা, তার সঙ্গে হালকা ওয়ার্ম-আপ করলে মাত্র ছয় সপ্তাহেই ফিটনেসে চোখে পড়ার মতো উন্নতি হয়।
উপকার কী?
সময় কম লাগে
আলাদা জিম বা যন্ত্রপাতির দরকার নেই
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
দীর্ঘদিন মেনে চলা সহজ
সব মিলিয়ে, যারা জিমে যাওয়ার সময় পান না বা প্রতিদিন ১০,০০০ কদম হাঁটা কঠিন মনে করেন, তাঁদের জন্য ব্যায়াম স্ন্যাকস হতে পারে ফিট থাকার সবচেয়ে সহজ ও বাস্তবসম্মত উপায়। দিনে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট, নিয়মিত হলেই মিলবে ফল।