আলুবাঙালির হেঁশেল থেকে শুরু করে ভারতের যে কোনও প্রান্তের রান্নাঘর- আলুর রাজত্ব সর্বত্র। আলুর দম হোক বা পরোটা, সিঙারা কিংবা চাট, এই সবজি ছাড়া যেন আমাদের এক দিনও চলে না। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন যে, আলু খেলেই নাকি পেট ভার হয়ে যায়, বুক জ্বালা বা গ্যাস-অম্বলের মতো অস্বস্তি শুরু হয়।
এখন প্রশ্ন হল, সত্যিই কি আলু খেলে অ্যাসিডিটি বাড়ে? নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মূল অপরাধী আলু নয়, বরং আলুর রান্নার পদ্ধতি এবং খাওয়ার ধরন।
আলু থেকেই কি গ্যাস হয়?
'ইউবি হেল্থ' (Ubie Health)-এর একটি রিপোর্ট বলছে, আলুতে 'রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ' নামক এক ধরনের উপাদান থাকে। এই স্টার্চ আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না এবং সরাসরি বৃহদন্ত্রে পৌঁছে যায়। সেখানে উপস্থিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া এই স্টার্চকে ফারমেন্ট করতে শুরু করে, যার ফলে গ্যাস উৎপন্ন হয়। যাদের পাচনতন্ত্র একটু বেশি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ার ফলেই পেট ফাঁপা, পেট ভার হওয়া এবং অ্যাসিডিটির মতো লক্ষণগুলো প্রবলভাবে দেখা দেয়।
কাদের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি হয়?
যারা 'ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম' (IBS) বা ঘন ঘন পেটের গোলমালে ভোগেন, তারা বেশি মাত্রায় আলু খেলে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। এমনিতে, পরিমিত পরিমাণে আলু খাওয়া হজমের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে অনেকেরই পেট ব্যথা এবং ভার বোধ হওয়ার মতো সমস্যা বাড়ে।
আলু খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলু আপনাকে কষ্ট দেবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি সেটিকে কীভাবে রান্না করছেন তার ওপর।
সেদ্ধ ও বেকড আলু: সেদ্ধ করা বা বেক করা আলু খুব সহজেই হজম হয়ে যায় এবং পেটে গোলমাল করে না।
অতিরিক্ত তেল- মশলা: অন্যদিকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস কিংবা অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে কষানো আলুর তরকারি পেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। তেল তেলে খাবার আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে অবধারিত ভাবে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা মাথাচাড়া দেয়।
সবুজ বা অঙ্কুরিত আলু এড়িয়ে চলুন: সবুজ হয়ে যাওয়া বা অঙ্কুরিত (যাতে গ্যাঁজ বেরিয়ে গেছে) আলু খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এই ধরনের আলুতে 'সোলানাইন' নামক এক ধরনের প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায়, যা বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা এবং হজমের মারাত্মক গোলমালের কারণ হতে পারে।
নজর রাখুন নিজের লক্ষণে
যদি দেখেন যে আলু খাওয়ার পরেই বারবার আপনার অ্যাসিডিটি হচ্ছে, তবে কয়েকদিন নিজের প্রতিদিনের ডায়েটের দিকে একটু কড়া নজর রাখুন। একটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন ঠিক কী ধরনের আলুর পদ এবং কতটা পরিমাণ খাওয়ার পর আপনার এই সমস্যাগুলো হচ্ছে। এই ছোট অভ্যাসটি সমস্যার আসল কারণ খুঁজে বের করতে এবং চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের সাহায্যে সঠিক সমাধান করতে সাহায্য করবে। তাই আলুকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে, রান্নার পদ্ধতিতে একটু বদল এনে দেখতেই পারেন।